খালি করা হলো দিল্লির মারকাজ মসজিদ

ভারতে করোনাভাইরাস সংক্রমণের কেন্দ্রস্থল হয়ে ওঠা তাবলিগ জামাতের সদর দফতর মারকাজ মসজিদ খালি করে দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের নেতৃত্বে দিল্লি পুলিশ ও কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার অভিযান শেষে সেখানকার একটি বড় এলাকা সিল করে দেওয়া হয়েছে। বুধবার সকালে মারকাজ মসজিদে অবস্থানরতদের আইসোলেশনে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। ভারতের সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার এ খবর জানিয়েছে।noname

মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের সংগঠন তাবলিগ জামাতের একটি আয়োজন গত ১ মার্চ দিল্লির নিজামুদ্দিন মারকাজ মসজিদে শুরু হয়। মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, সৌদি আরব ও কিরগিজিস্তানের প্রতিনিধিসহ প্রায় দুই হাজার মানুষ ওই আয়োজনে অংশ নেয়। ১৫ মার্চ পর্যন্ত অনুষ্ঠান চলে। অনুষ্ঠান শেষেও অনেকে সেখানে অবস্থান চালিয়ে যেতে থাকে। ২৪ মার্চ ভারতজুড়ে লকডাউন শুরুর সময়েও সেখানে প্রায় দেড় হাজার মানুষের অবস্থান ছিল।

বিভিন্ন স্থান থেকে ওই জমায়েতে অংশগ্রহণকারীদের করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃত্যুর খবর আসতে শুরুর পর মঙ্গলবার মারকাজ মসজিদে উপস্থিত হন ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল। তার নির্দেশে রাতেই নিজামুদ্দিন রেলওয়ে স্টেশন থেকে ডিফেন্স কলোনি পর্যন্ত বড় এলাকা বন্ধ করে দেওয়া হয়। বুধবার সকাল থেকে অভিযানের উদ্দেশ্য স্পষ্ট হতে থাকে।

আনন্দবাজারের খবরে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার নিজামুদ্দিন মারকাজে পৌঁছে শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন অজিত দোভাল। পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে সেখানে সমবেত সকলকে বের করে নিয়ে আইসোলেশনে পাঠানো হবে বলে তাদের জানান তিনি। জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার কথা মেনে নিয়ে তাদের সহায়তার আশ্বাস দেন নেতারা। পরে অভিযানে নামে পুলিশ।

মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত সেখানে অবস্থানরতদের বের করে নিয়ে আইসোলেশনে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। শুরু হয়েছে তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষাও।

এছাড়া মারকাজ নিজামুদ্দিন চত্বরের বেশ কিছু স্থাপনাও ভেঙে দিয়েছে পুলিশ। অবস্থানরতদের সরিয়ে দেওয়ার পর ওই এলাকা জীবাণুমুক্ত করার সুবিধার্থে এসব স্থাপনা ভাঙা হয় বলে দাবি পুলিশের। আপাতত সেখানকার মসজিদে নামাজের জামাতও করা যাবে না বলে জানানো হয়েছে। বন্ধ থাকবে শুক্রবারের জুমার নামাজও।