যে ম্যালেরিয়ার ওষুধকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প করোনা মোকাবিলার ক্ষেত্রে ‘গেম চেঞ্জার’ আখ্যা দিয়েছিলেন; করোনা চিকিৎসায় সেই ম্যালেরিয়ার ওষুধ ব্যবহার নিয়ে সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রাশাসন বিভাগ (এফডিএ)। তারা বলছে, হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন ও ক্লোরোকুইন ব্যবহারের কারণে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে। হাসপাতাল ও ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের বাইরে করোনা রোগীদের ক্ষেত্রে ওষুধ দুইটি প্রয়োগ না করার পরামর্শ দিয়েছে তারা।
করোনাভাইরাসের এখন পর্যন্ত কোনও স্বীকৃত ওষুধ আবিষ্কৃত না হওয়ায় পরীক্ষামূলক বিভিন্ন তৎপরতা চলছে। চিকিৎসায় হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন ও ক্লোরোকুইনের ব্যবহার নিয়ে চীনে ফেব্রুয়ারি মাসে চালানো এক সমীক্ষার পর বিষয়টি নিয়ে লেগোসে তুমুল আলোচনা ও বিতর্ক শুরু হয়। মার্চের শেষ সপ্তাহে ট্রাম্প দাবি করেন, এফডিএ করোনাভাইরাসের চিকিৎসায় ওই ওষুধ অনুমোদন করেছে। তবে তখনই দাবিটি নাকচ করে দেয় এফডিও। তা সত্ত্বেও লোকজনের মধ্যে হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন ও ক্লোরোকুইন কিনে ঘরে মজুত করার হিড়িক পড়ে যায়।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) এ নিয়ে একটি বিবৃতি দিয়েছে মার্কিন খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন বিভাগ। তাতে বলা হচ্ছে, ‘আমরা জানতে সক্ষম হয়েছি, হাসপাতালের বাইরে এই ওষুধের ব্যবহার বিস্তৃত হতে শুরু করেছে। তাই আমরা স্বাস্থ্যসেবা খাতের পেশাজীবী ও রোগীদের মনে করিয়ে দিতে চাই করোনার চিকিৎসায় হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন এবং ক্লোরোকুইন সেবন শরীরের জন্য বিপদজনক।’
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘কোভিড-১৯ রোগীদের হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন বা ক্লোরোকুইন প্রয়োগের কারণে রোগীদের অস্বাভাবিক হৃৎস্পন্দনসহ হৃদরোগের মতো মারাত্মক কিছু উপসর্গ দেখা দিচ্ছে। এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন আমাদের হাতে এসেছে। তাই এর ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হবে।’
বেশ কিছুদিন ধরেই করোনাভাইরাসের ওষুধ হিসেবে হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন এবং এই সংশ্লিষ্ট ক্লোরোকুইন ব্যবহার করতে মার্কিন কর্মকর্তাদের চাপ দিয়ে আসছিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই ওষুধ ব্যবহার নিয়ে সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিয়ে সম্প্রতি পদ হারিয়েছেন বায়োমেডিক্যাল অ্যাডভান্সড রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট কর্তৃপক্ষের (বিএআরডিএ) পরিচালক রিক ব্রাইট। এক বিবৃতিতে তিনি দাবি করেছেন, ঝুঁকিপূর্ণ ওষুধের ব্যবহার নিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে মতবিরোধের জের ধরে তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর কয়েকদিনের মাথায় এফডিএ ওই ওষুধ সতর্কতা জারি করলো।
মার্চের শেষ সপ্তাহে এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেছিলেন, “আমরা অবিলম্বে ব্যবহারের জন্য বাজারে হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন ও ক্লোরোকুইনন উন্মুক্ত করতে যাচ্ছি। এফডিএ এ ব্যাপারে দারুণ কাজ করেছে। তারা অনুমোদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে এবং এর জন্য অনুমোদন দেয়া হয়েছে।” সেই সময়ও এফডিএ ট্রাম্পের দাবি নাকচ করে বলেছিল “কোভিড-১৯-এর চিকিৎসা, নিরাময় বা তা প্রতিহত করার জন্য এফডিএ অনুমোদিত কোন ওষুধ নেই” ।