যুক্তরাষ্ট্রে আটক ইরানি বিজ্ঞানী করোনায় আক্রান্ত


যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন কারাগারে আটক থাকা ইরানি বিজ্ঞানী ড. সিরৌস আসগারি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। পরিবারের সদস্য ও অ্যাটর্নিদের বরাত দিয়ে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এ তথ্য জানিয়েছে। শারীরিক অবস্থা নাজুক থাকায় গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই মুক্তির আবেদন জানিয়ে আসছিলেন আসগারি।
 
সিরৌস আসগারি
ড. সিরৌস আসগারি ইরানের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যাটেরিয়ালস সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং-এর অধ্যাপক। ওহাইও’র একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে একাডেমিক কাজ সংক্রান্ত মেধাস্বত্ব ভঙ্গের অভিযোগ তুলে ২০১৭ সালে তাকে বিচারের মুখোমুখি করেছিল মার্কিন কেন্দ্রীয় সরকার। গত বছরের নভেম্বরে অভিযোগ থেকে নিষ্কৃতি পান তিনি। ফেডারেল সরকারের মামলা থেকে খালাস পেলেও যুক্তরাষ্ট্র মূল ভিসা প্রত্যাহার করে নেওয়ায় তাকে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে মার্কিন অভিবাসন ও শুল্ক কর্তৃপক্ষ (আইস)। তখন থেকে অভিবাসন কর্তৃপক্ষের পরিচালিত আটককেন্দ্রে আছেন তিনি।
 
গত মার্চে আসগারি অভিযোগ করেছিলেন, কারাগারের ভেতরের অবস্থা মানবেতর এবং সেখানে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা হয় না। আশঙ্কা জানিয়েছিলেন, আটককেন্দ্রে করোনা ছড়িয়ে পড়তে পারে। আগে থেকেই শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা থাকায় করোনা পরিস্থিতির মধ্যে মুক্তির আবেদন জানিয়েছিলেন তিনি। তবে অভিবাসন কর্তৃপক্ষ তাতে সাড়া দেয়নি।
 
আসগারির আইনজীবীরা জানিয়েছেন, তার শরীরে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ার পর এ সপ্তাহে তাকে লুইজিয়ানায় অভিবাসন কারাগারের একটি আইসোলেশন সেলে নেওয়া হয়েছে। টেলিফোনে গার্ডিয়ানকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আসগারি জানান, তার কয়েকদিন ধরে জ্বর এবং খুব কাশি হচ্ছে। পরিবারের দাবি, তাকে যেন কোনও চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে তিনি যথাযথ চিকিৎসা পেতে পারেন।
 
মঙ্গলবার ৫৯ বছর বয়সী আসগারি বলেন, ‘আমাকে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো প্রয়োজন। আমি তাদেরকে একেবারেই ভরসা করি না। কিছু হলে তারা দ্রুত ব্যবস্থা নেবে না। আমি এ নোংরা জায়গা ছাড়তে চাই।’
অভিবাসন কর্তৃপক্ষ আইনজীবীদের জানিয়েছে, মঙ্গলবার আসগারির দেহে করোনা শনাক্ত হয়েছে। তবে আসগারির অভিযোগ, তাকে কিছু জানানো হয়নি, পরিবারের সঙ্গে ফোনালাপে তিনি এ কথা জানতে পেরেছেন। অভিবাসন কর্তৃপক্ষের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, আটককেন্দ্রে দুইজন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। তবে আসগারির আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেননি তিনি।