ক্যালিফোর্নিয়ায় বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত ১৪

shootingযুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় প্রতিবন্ধীদের জন্য ব্যবহৃত একটি সামাজিক সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে বন্দুকধারীর গুলিতে কমপক্ষে ১৪ জন নিহত ও আরও ১৭ জন আহত হয়েছে। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
বুধবার স্থানীয় সময় বিকেলে ক্যালিফোর্নিয়ার সান বারনারডিনো এলাকায় ইনল্যান্ড রিজিওনাল সেন্টার ইস এ হেলপ অ্যান্ড মেডিক্যাল অর্গানাইজেসন নামে প্রতিষ্ঠানটিতে ঘটনা ঘটে। এই হামলায় মোট তিন জন বন্দুকধারী অংশ নেয় বলে মনে করছে পুলিশ। ঘটনাস্থলে মার্কিন পুলিশের বিশেষ টিম সোয়াত এবং বোমা নিস্ক্রিয়করণ দল কাজ করছে।
এছাড়া দেশটির প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকে ঘটনা সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছে বলে হোয়াইট হাউজের একটি সূত্র জানিয়েছে। 

ce83f1b7-ab85-4a04-a1c7-4b9cdd64ac55

যদিও পুলিশের এক মুখপাত্র জানান, তারা ভবনটির নিয়ন্ত্রণ নিতে চেষ্টা করছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, স্থানীয় সময় বেলা ১১টার দিকে হঠাৎ করেই সেনাবাহিনীর মতো পোশাক পরিহিত তিন জন এলোপাথারি গুলি করতে করতে সেবা প্রতিষ্ঠানটির ভবনে ঢুকে পড়ে। কিছুক্ষণ পর তারা একটি কালো এসইউভি গাড়িতে করে পালিয়ে যায়।  ঘটনার প্রায় চার ঘণ্টা পর পুলিশ ঘটনাস্থলের কাছেই একটি আবাসিক এলাকা থেকে সন্দেহজনক কালো গাড়িটিকে ঘিরে ফেলে। এসময় গাড়িটির কাঁচে গুলির চিহ্ন ও এক ব্যক্তিকে মৃত পড়ে থাকতে দেখা যায়। তবে সান বারনারডিনোর ঘটনার সঙ্গে গাড়িটির যোগসূত্র আছে কিনা তা এখন খতিয়ে দেখছেন এফবিআই গোয়েন্দারা।     

এদিকে সেবামূলক ভবনটির দ্বিতীয় তলায় একটি বোমা সাদৃশ বস্তুর সন্ধান পেয়েছে সোয়াত টিম। সেটি আসলেই বোমা কিনা তা খতিয়ে দেখার জন্য রোবট ব্যবহার করছে তারা।

বিভিন্ন টিভি ফুটেজে আহত লোকজনদের ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নিতে দেখা গেছে। ঘটনাস্থলের কাছে লোমা লিন্ডা হাসপাতালের মুখপাত্র ব্রায়ানা পাস্তোরিনো জানিয়েছেন, তারা আহতদের সেবা দেওয়ার জন্য সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়েছেন।

স্থানীয় টেরি পিটিট এক ব্যক্তি জানিয়েছেন, তার মেয়ে ভবনটির ভেতর থেকে এসএমএস পাঠিয়ে জানিয়েছেন, সেখানে সে লুকিয়ে আছে। এসএমএসে মেয়েটি লিখেছে, ‘লোকজনকে গুলি করা হচ্ছে। পুলিশের জন্য এখন অপেক্ষা করছি। আমাদের জন্য প্রার্থণা করো। আমি আমার অফিসে আটকা পড়েছি।’

প্রতিষ্ঠানটির ফেসবুক পেজের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে বিভিন্ন দেশের কমপক্ষে ৬৭০ জন কাজ করেন।  তবে হামলার সময় ভবনটির ভেতরে ঠিক কতো জন ছিলেন তা এখনও নিশ্চিত নয়। সূত্র: সিএনএন, বিবিসি ও এবিসি নিউজ      

/এসএম/