জনসনের করোনা টিকার পরীক্ষা জুলাইয়ে

করোনাভাইরাসের টিকা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান জনসন অ্যান্ড জনসন। আগামী সেপ্টেম্বরে এর হিউম্যান ট্রায়াল হওয়ার কথা ছিল। তবে ১০ জুন বুধবার প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, দুই মাস এগিয়ে আগামী জুলাইতেই মানুষের শরীরে করোনা ভ্যাকসিনের ট্রায়াল করবে তারা।noname

জনসন অ্যান্ড জনসনের চেয়ারম্যান ও সিইও অ্যালেক্স গোরস্কি জানিয়েছেন, টিকা তৈরির কাজ শেষ। ল্যাবরেটরিতে পশুর শরীরে ট্রায়ালের ফল সন্তোষজনক। গবেষণা এখনও চলছে। এবার খুব তাড়াতাড়ি মানুষের শরীরে এর পরীক্ষামূলক প্রয়োগ করা হবে।

বায়োমেডিক্যাল অ্যাডভান্সড রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অথরিটির সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে এটি তৈরি করছে জনসন অ্যান্ড জনসনের রিসার্চ উইং জ্যানসেন ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি। শুরুতে সংস্থার তরফে জানানো হয়েছিল ভ্যাকসিনের প্রথম পর্যায়ের ট্রায়াল হবে সেপ্টেম্বরে। তবে অ্যালেক্স জানিয়েছেন, আর বেশি দেরি করতে চান না তারা। মানুষের শরীরে এই ভ্যাকসিনের প্রভাব লক্ষ্য করেই তার ডোজ তৈরি শুরু হবে।

ইতোমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সঙ্গে চুক্তির ভিত্তিতে প্রায় ১০০ কোটি ভ্যাকসিনের ডোজ তৈরির প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে জনসন অ্যান্ড জনসন।

এক হাজার ৪৫ জন সুস্থ ও প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির শরীরে এই টিকা প্রয়োগ করা হবে। এজন্য মূলত বেছে নেওয়া হয়েছে ১৮ থেকে ৫৫ বছর বয়সীদের। তবে ৬৫ বছর বা তদুর্ধ্ব কিছু প্রবীণ ব্যক্তিও রয়েছেন তালিকায়।

কোভিড ভ্যাকসিন তৈরির কাজ শুরু হয়েছে জানুয়ারি থেকে। হার্ভার্ড মেডিক্যাল স্কুলের অধ্যাপক ও গবেষকদের সহযোগিতায় ভ্যাকসিন ক্যানডিডেট বানিয়েছে জনসন অ্যান্ড জনসন। গবেষকরা বলেছেন, সার্স-কভ-২ ভাইরাসের স্পাইক প্রোটিনকে নিষ্ক্রিয় করে তাকে ল্যাবরেটরিতে বিশেষ পদ্ধতিতে পরিশুদ্ধ করে এই ভ্যাকসিন তৈরি হচ্ছে।

মানুষের শরীরে ঢুকলে সেই নিষ্ক্রিয় ভাইরাল প্রোটিন ‘মেমরি বি সেল’ তৈরি করবে। এই মেমরি বি সেলের কাজ হলো বাইরে থেকে শরীরে ঢোকা ভাইরাল প্রোটিন বা অ্যান্টিজেনগুলোকে চিহ্নিত করে তার প্রতিরোধী অ্যান্টিবডি তৈরিতে সাহায্য করা। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এইভাবেই ভাইরাসের মোকাবিলায় শরীরে রোগ প্রতিরোধ শক্তি গড়ে উঠবে।

এর আগে করোনা প্রতিরোধে মেসেঞ্জার আরএনএ বা এমআরএনএ সিকুয়েন্সকে কাজে লাগিয়ে এমআরএনএ-১২৭৩ টিকা তৈরি করেছে মার্কিন বায়োটেক কোম্পানি মোডার্না। মানবদেহে সেটির প্রাথমিক ট্রায়াল সম্পন্ন হয়েছে। সেই ট্রায়ালের রিপোর্ট সন্তোষজনক বলে জানিয়েছে মোডার্না। এখন তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়ালের জন্য প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। অন্যদিকে ইনোভিও বায়োটেকও আরএনএ টেকনোলজিকে কাজে লাগিয়ে করোনার টিকা তৈরিতে কাজ করছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, তাদের টিকা মানবদেহে শক্তিশালী অ্যান্টিবডি তৈরি করবে। সূত্র: দ্য ওয়াল, ডব্লিউআইওএন।