পুলিশ বলছে, সন্ত্রাসী হামলায় ১৪ জন নিহত ও ২১ জন আহত হওয়ার পর সন্দেহভাজন হামলাকারী দম্পতির বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় সেখানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও বিস্ফোরক পাওয়া যায়। এগুলোর মধ্যে বোমা তৈরির সরঞ্জাম, অস্ত্রশস্ত্র ও কয়েক হাজার রাউন্ড গুলি রয়েছে।
বাড়িতে বিস্ফোরক পেলেও এখন পর্যন্ত হামলার উদ্দেশ্য কি ছিল এখন পর্যন্ত সেটা জানতে পারেনি পুলিশ। তবে প্রাথমিকভাবে কর্মস্থলে শত্রুতাকে সন্দেহ করা হচ্ছে। কারণ হামলাকারী সাঈদ রিজওয়ান ফারুক পাঁচ বছর চাকরির পর ক্ষোভের মুখে ওই প্রতিষ্ঠানটির চাকরি ছাড়েন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সান বারনারডিনো এলাকার পুলিশ প্রধান জ্যারড বার্গুয়ান বলেন, মনে হচ্ছে তারা দুইজন (হামলাকারী দম্পতি) অন্য একটি হামলার জন্যও প্রস্তুতি নিচ্ছিল।
হামলাকালে ৭৬ রাউন্ড গুলি ছোড়ে সাঈদ রিজওয়ান ফারুক এবং তার স্ত্রী তাশফিন মালিক। বিপরীতে ৩৮০ রাউন্ড গুলি ছোড়ে পুলিশ। এ সময় দুই পুলিশ সদস্যও আহত হন।
মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই বলছে, এখন পর্যন্ত এটাকে সন্ত্রাসবাদীদের হামলা বলার সময় আসেনি।
হামলাকারীদের স্বজন এবং ‘সহ-ষড়যন্ত্রকারীদের’ বিষয়ে অনুসন্ধান চালাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
এদিকে, বিবিসি’র আরেক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, সান বারনারডিনোর ঘটনাস্থলে পাওয়া অস্ত্রের ভিত্তিতে পুলিশ বলছে, হামলাকারীরা যে অস্ত্রগুলো ব্যবহার করেছে তার সবগুলোই বৈধ।
উল্লেখ্য, বুধবার ক্যালিফোর্নিয়ার সান বারনারডিনো এলাকায় ইনল্যান্ড রিজিওনাল সেন্টার ইস এ হেলপ অ্যান্ড মেডিক্যাল অর্গানাইজেশন নামের একটি প্রতিবন্ধী সেবাকেন্দ্রে এ হামলার ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সময় বেলা ১১টার দিকে হঠাৎ করেই সেনাবাহিনীর মতো পোশাক পরিহিত তিনজন এলোপাতাড়ি গুলি করতে করতে ভবনটিতে ঢুকে পড়ে। কিছুক্ষণ পর তারা একটি কালো এসইউভি গাড়িতে করে পালিয়ে যায়। পুলিশ বলছে, হামলার ধরন দেখে মনে হচ্ছে এটা পরিকল্পিত।
২০১২ সালের পর যুক্তরাষ্ট্রে এভাবে গণহারে গুলিবর্ষণের ঘটনা এটাই প্রথম। সে সময় নিউ টাউনের একটি স্কুলে বন্দুকধারীর হামলায় নিহত হন ২৬ জন। সূত্র: বিবিসি।
/এমপি/