আইএস-আল কায়েদার সঙ্গে যোগাযোগ ছিল ফারুক-তাশফিন দম্পতির!

Cover Picসান বারনারডিনোর হামলাকারী সাঈদ ফারুকের সঙ্গে আল কায়েদা সংশ্লিষ্ট সিরিয়ার নুসরা ফ্রন্টসহ অন্তত দুটি জঙ্গি সংগঠনের যোগাযোগ ছিল বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম লস অ্যাঞ্জেলস টাইমস। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এক থিংকট্যাংক-এর বরাতে ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম জি-নিউজ দাবি করেছে, হামলাকারীরা আইএস প্রভাবিত এবং সম্ভবত আল কায়েদার সঙ্গে জড়িত। আর ক্যালিফোর্নিয়ার হত্যাযজ্ঞকে সন্ত্রাসী হামলা আখ্যা দিয়েছে মার্কিন কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা (এফবিআই)। তারা বলেছে, এ হামলা ছিল সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ডের অংশ, ফলে সন্ত্রাসী হামলা হিসেবেই এর তদন্ত চালানো হচ্ছে।

Crime Scene Investigators search the suspected assailants

লস অ্যাঞ্জেলস টাইমস-এর খবরে দাবি করা হয়, ফারুকের সঙ্গে সিরিয়াভিত্তিক নুসরা ফ্রন্ট এবং সোমালিয়ার আল শাবাব গোষ্ঠীর যোগাযোগ ছিল। কিন্তু তাদের মধ্যে কী ধরনের যোগাযোগ ছিল তা পরিষ্কার করে বলতে পারেনি লস অ্যাঞ্জেলস টাইমস।

এদিকে ‘ইন্সটিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব ওয়্যার’ (আইএসডাব্লিউ) এর বরাতে জি নিউজের দাবি ফারুক-তাশফিন দম্পতি আইএস-এর দ্বারা অনুপ্রাণিত এবং সম্ভবত আল কায়েদার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। আইএসডাব্লিউ-এর দাবির বরাতে জি নিউজ জানায়, যুক্তরাষ্ট্রে এটিই প্রথম আল কায়েদা অথবা আইএস ধারার হামলা যেখানে ২০০৮ সালের মুম্বাই হামলা কিংবা ২০১৩ সালে কেনিয়ার ওয়েস্টগেট হামলা কিংবা ২০১৫ সালের প্যারিস হামলার কায়দায় হামলাকারীরা একইসঙ্গে বন্দুক ও বিস্ফোরক ব্যবহারে পারদর্শী ছিলেন।

এই হামলাকারীদের খিলাফতের সিংহ বলে বাহবা দিয়েছে আইএস; হামলার সঙ্গে জঙ্গিদের সংযোগের কথা বলতে গিয়ে এ তথ্য জানায় আইএসডব্লিউ। তারা আরও দাবি করে, পশ্চিমের বিরুদ্ধে এ ধরনের হামলা চালাতে আল কায়েদা নেতা আয়মান আল জাওয়ারির দেয়া বিবৃতির কাছাকাছি সময়ে হামলাটি সংঘটিত হয়েছে।

শুক্রবার এফবিআইয়ের পরিচালক জেমস কমি জানান, তথ্যপ্রমাণ থেকে এটা নিশ্চিত যে হামলাকারী দম্পতি উগ্রবাদী ছিলেন। এমনকি তাদের একজন জঙ্গি দল আইএসের এক নেতাকে সমর্থন করে ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছিলেন। এফবিআই- এর দাবি, প্রাথমিক তদন্তে তারা নিশ্চিত যে হামলার পেছনে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী চক্রের উস্কানি রয়েছে। তবে সরাসরি কোনও আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী চক্র হামলায় জড়িত কিনা সে সম্পর্কে নিশ্চিত নয় তারা।

এর আগে এফবিআই-এর এক মুখপাত্র বলেন, হামলাকারী তাশফিন মালিক সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে আইএস নেতা আবু বকর আল বাগদাদিকে ভিন্ন নামে সমর্থন করে একটি পোস্ট দিয়েছিলেন। তবে পরে সেটি সরিয়ে ফেলা হয়।

আর ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবরে উঠে এসেছে তাশফিন সংক্রান্ত নানা তথ্য। এরইমধ্যে নিশ্চিত হয়েছে যে, তার জন্ম পাকিস্তানে এবং সৌদিআরব থেকে তিনি ক্রমাগত রক্ষণশীল হতে থাকেন। ভুয়া ফেসবুক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে তাসফিন সন্ত্রাসী সংগঠন আইএসের প্রতি আসক্তি প্রকাশ করেছেন বলে দাবি এফবিআই-এর। এই ধারাবাহিকতায় ক্যালিফোর্নিয়ায় হামলার পর নিজ দেশের জঙ্গিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পাকিস্তানের প্রধামন্ত্রী নওয়াজ শরীফের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ।

উল্লেখ্য, বুধবার ক্যালিফোর্নিয়ার সান বারনারডিনো এলাকায় ইনল্যান্ড রিজিওনাল সেন্টার ইস এ হেলপ অ্যান্ড মেডিক্যাল অর্গানাইজেশন নামের একটি প্রতিবন্ধী সেবাকেন্দ্রে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত হন ১৪ জন। আহত হন ২১ জন। স্থানীয় সময় বেলা ১১টার দিকে হঠাৎ করেই সেনাবাহিনীর মতো পোশাক পরিহিত দুইজন এলোপাতাড়ি গুলি করতে করতে ভবনটিতে ঢুকে পড়ে। পরে পুলিশের গুলিতে নিহত হয় হামলাকারী দম্পতি সাঈদ ফারুক ও তাশফিন মালিক।

তাদের ভাড়া করা গাড়িতে দুটি রাইফেল, দুটি আধা-স্বয়ংক্রিয় হ্যান্ডগান ও এক হাজার ৬০০টি গুলি পাওয়া যায়। পরে তাদের বাড়ি থেকে বোমা তৈরির সরঞ্জাম, ১২টি পাইপবোমা ও সাড়ে চার হাজার রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। হামলার আগে তারা নিজেদের ৬ মাস বয়সী সন্তানকে ফারুকের মায়ের কাছে রেখে আসেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। সূত্র: লস অ্যাঞ্জেলস টাইমস, টাইমস অব ইন্ডিয়া, জি নিউজ, বিবিসি

/বিএ/ এএইচ/