পম্পেও’র মন্তব্যে ক্ষুব্ধ ডব্লিউএইচও প্রধান

নিরপেক্ষতা প্রশ্নে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওর করা অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রধান টেড্রোস আডানম গেব্রিয়াসিস। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) এক ভার্চুয়াল প্রেস কনফারেন্সে একে ‘মিথ্যা’ ও ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি’র প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

গেব্রিয়াসিস

ডব্লিউএইচও প্রধান টেড্রোস আডানম গেব্রিয়াসিসকে চীন কিনে নিয়েছে বলে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) অভিযোগ করেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও। এদিন যুক্তরাজ্য সফরকালে দেশটির এমপিদের সঙ্গে এক বৈঠকে পম্পেও বলেন, ‘ডব্লিউএইচও প্রধান চীনের কাছে বিক্রি হয়ে গেছেন এবং এর ফলেই যুক্তরাজ্যে করোনাভাইরাসে এত মানুষের মৃত্যু হয়েছে।’

বৃহস্পতিবার এক ভার্চুয়াল প্রেস কনফারেন্সে সাংবাদিকরা গ্রেব্রিয়াসিসের কাছে পম্পেওর অভিযোগের ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া জানতে চান। জবাবে তিনি বলেন, ‘এ অভিযোগ অসত্য ও অগ্রহণযোগ্য। এ অভিযোগের কোনও ভিত্তি নেই।’

গেব্রিয়াসিস জোর দিয়ে বলেন, ‘আমাদের এই পুরো সংস্থা একটি দিকেই মনোনিবেশ করেছে, আর তা হচ্ছে মানুষের জীবন বাঁচানো। এসব মন্তব্য করে ডব্লিউএইচও-কে এর থেকে বিচ্যুত করা যাবে না। গোটা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় মনোযোগ হারাক তাও আমরা চাই না’।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান মনে করেন, মহামারির রাজনীতিকরণ হলো বর্তমান সংকটের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় হুমকি। রাজনীতি ও বিভাজনের কারণে পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘কোভিড-১৯ কোনও সীমানা, আদর্শ কিংবা রাজনৈতিক দল মানে না। তাই রাজনীতিকে এখন কোয়ারেন্টিনে রাখা উচিত।’

শুধু ম্পেও নয় গত কয়েক মাস ধরেই করোনাভাইরাস সংকট সামাল দেওয়ার প্রশ্নে অনবরত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কটাক্ষের শিকার হচ্ছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। ডব্লিউএইচওকে ‘চীনঘেঁষা’ ও ‘চীনের পুতুল’ বলে উল্লেখ করে আসছেন  তিনি। করোনা মহামারি শুরুর পর থেকেই কোভিড-১৯ কে চীনা ভাইরাস নামে ডাকছেন ট্রাম্প। একইসঙ্গে তিনি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিরুদ্ধে চীনকে বাঁচাতে দেশটির করোনা সংক্রান্ত তথ্য গোপনের অভিযোগ করেন। এই অভিযোগে সংস্থাটি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে এতে মার্কিন তহবিল বন্ধের ঘোষণা দেন ট্রাম্প।