সৌদি-ইরান উত্তেজনা

তেহরানবিরোধী অবস্থানে আরও কয়েকটি দেশ

তেহরানের সৌদি দূতাবাসে আগুন দেয় ইরানি বিক্ষোভকারীরাতেহরান-রিয়াদের মধ্যে চলমান উত্তেজনায় সৌদি আরবকে সমর্থন জানিয়ে ইরান থেকে এবার রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহারের ঘোষণা দিলো কাতার। সৌদি আরবে শিয়া ধর্মীয় নেতা শেখ নিমরকে শিরশ্ছেদের পর তেহরানে সৌদি দূতাবাসে হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইরানের সঙ্গে একের পর এক দেশের সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন ও কূটনীতিক প্রত্যাহারের ধারাবাহিকতায় বুধবার এ ঘোষণা দেওয়া হয়। একইদিনে সৌদিপন্থী অবস্থান ব্যক্ত করেছে জর্ডান, জিবুতি ও তুরস্ক। এদিকে সৌদি দূতাবাসে হামলাকারীদের দ্রুত বিচারের মুখোমুখি করতে দেশটির বিচারবিভাগের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি।
কাতার নিউজ এজেন্সির খবরে জানানো হয়, হামলার প্রতিক্রিয়ায় তেহরানে নিযুক্ত কাতারের রাষ্ট্রদূতকে বুধবার প্রত্যাহার করেছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানায়, একই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় জিবুতিও ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করেছে। হামলার নিন্দা জানাতে ইরানের রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে জর্ডান। আর ওই ঘটনায় সৌদি আরবের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে তুরস্ক।
সৌদি আরবে শিয়া নেতা শেখ নিমর আল-নিমরসহ ৪৭ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনাটি সে দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় দাবি করে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তায়িপ এরদোয়ান বলেন, ‘ওই ঘটনার জেরে তেহরানে সৌদি আরবের দূতাবাসে হামলা অগ্রহণযোগ্য’।
শনিবার সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে একদিনে নিমরসহ ৪৭ জনের শিরশ্ছেদের ঘোষণা দেওয়া হয়। মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়াদের মধ্যে একজন মিসরীয় ও একজন কানাডিয়ান নাগরিকও রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদের অভিযোগ আনা হয়েছিলো। অভিযুক্তরা বিভিন্ন আবাসিক এলাকা ও সরকারি ভবনে হামলা ও হামলার পরিকল্পনার সাথে জড়িত ছিল বলে দাবি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। নিমররসহ ৪৭ জনকে শিরশ্ছেদের পর শনিবার তেহরানে অবস্থিত সৌদি দূতাবাসে আগুন দেওয়া হয়। জবাবে ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দেয় সৌদি আরব। 

পর দিন বাহরাইন, সুদান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতও (ইউএই) একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দেয়। মঙ্গলবার ইরানে নিযুক্ত  রাষ্ট্রদূতকে প্রত্যাহার করে কুয়েত। আর সবশেষ বুধবার কাতারও ইরান থেকে রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহারের ঘোষণা দিলো। সূত্র: আল জাজিরা

/এফইউ/বিএ/