সিরিয়ায় সংঘাতবিরতি নিয়ে সমঝোতায় শক্তিধর দেশগুলো

অবশেষে সিরিয়ায় সংঘাতবিরতি নিয়ে সমঝোতায় শক্তিধর দেশগুলোঅবশেষে সিরিয়ার মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় স্বাভাবিকতা আনতে চলমান সংঘর্ষে বিরতি নিশ্চিত করার ব্যাপারে সমঝোতায় পৌঁছেছে বিশ্বের শক্তিধর দেশগুলো। বৃহস্পতিবার রাতে জার্মানির মিউনিখে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এ ব্যাপারে সমঝোতা হয় বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো।
এই সংঘাতবিরতির ব্যাপারে পরাশক্তিধর দেশগুলো এমন এক সময়ে সম্মত হলো যখন রাশিয়ার বিমান হামলার সহায়তা নিয়ে সিরিয়ার সরকারী বাহিনী আলেপ্পোর দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এই এলাকাটি সরকার বিরোধীদের দখলে। পরাশক্তিধর দেশগুলোর নেওয়া পরিকল্পনায় ‘যুদ্ধবিরতি’ শব্দটি রাখা হয়নি বলে জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা।
বৈঠকের পর সাংবাদিক সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি বলেন,পরাশক্তিধর দেশগুলো এমন এক পরিকল্পনায় সম্মতি জানিয়েছে যার মধ্য দিয়ে সিরিয়ার মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে। তবে এই সংঘাতবিরতি সুন্নিপন্থী সশস্ত্র সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস) ও আল-কায়েদার সঙ্গে সম্পর্কিত নুসরা ফ্রন্টের ক্ষেত্রে কার্যকর হবে না বলে জানিয়েছেন কেরি।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান,সিরিয়ায় অবরুদ্ধ অঞ্চলগুলোতে জরুরি ত্রাণ পৌঁছানোর ব্যাপারেও একমত হয়েছেন তারা। সাংবাদিক সম্মেলনে কেরির পাশে ছিলেন রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ এবং জাতিসংঘের সিরিয়া বিষয়ক বিশেষ দূত।

রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ল্যাভরভ বলেন, ‘আশাবাদী হওয়ার কারণ রয়েছে। কেননা আজ আমরা একটি বড় কাজ করেছি।’ শুরুতে অবশ্য ১ মার্চ থেকে সিরিয়ায় সংঘাতবিরতি কার্যকর করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছিল রাশিয়া।

বৈঠকের পর যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফিলিপ হ্যামন্ড বলেন, ‘এই বিরতি তখনই কার্যকর হবে যদি রাশিয়া তার হামলা বন্ধ করে’।

অবশ্য রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়ে দিয়েছেন, বিমান হামলা চলবে।

সংঘাতকবলিত সিরিয়ার মানুষ

মূলত,সিরিয়ায় সরকার ও বিদ্রোহীদের মধ্যে শান্তি আলোচনায় গতি আনতে মিউনিখে বৈঠক করেন যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, সৌদি আরব, ইরানসহ শক্তিধর দেশগুলোর নেতারা।  

এদিকে সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস জানিয়েছে, চলতি ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম ১০ দিনে সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় প্রদেশ আলেপ্পোয় রাশিয়া ও আসাদ বাহিনীর হামলায় শিশুসহ নিহত হয়েছেন অর্ধসহস্রাধিক মানুষ। গৃহহীন হয়েছেন ৫০ হাজারেরও বেশি।

সিরিয়ান সেন্টার ফর পলিসি রিসার্স জানিয়েছে, সিরিয়ায় গত ৫ বছর ধরে সরকারি বাহিনী ও সরকারবিরোধীদের মধ্যে চলমান গৃহযুদ্ধে নিহত হয়েছেন অন্তত ৪ লাখ ৭০ হাজার মানুষ। আর গৃহযুদ্ধে মানুষের গড় আয়ু প্রায় ১৫ বছর কমে গেছে।

দেড় বছর আগে জাতিসংঘের সর্বশেষ পরিসংখ্যানে সিরিয়ায় আড়াই লাখ মানুষের প্রাণহানির তথ্য দেওয়া হয়েছিল।

সেন্টার ফর পলিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১১ সালের মার্চে সিরিয়ায় সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার পর দেশটির মোট জনসংখ্যার সাড়ে ১১ শতাংশ মানুষের প্রাণহানি হয়েছে কিংবা তারা আহত হয়েছেন। সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে আহত মানুষের সংখ্যা ১৯ লাখ।

২০১৫ সালে সিরিয়ায় প্রত্যাশিত গড় আয়ু কমে ৫৫.৪ এ দাঁড়িয়েছে। ২০১০ সালে দেশটির মানুষের গড় আয়ু ছিল ৭০ বছর। এছাড়া ৫ বছরের গৃহযুদ্ধে অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৫৫ বিলিয়ন ডলারে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গৃহযুদ্ধে নিহতদের মধ্যে ৪ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে সংঘাতের কারণে। আর অপর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবা, ওষুধ ও খাদ্য স্বল্পতা এবং বিশুদ্ধ পানির অভাবে প্রাণ হারিয়েছেন ৭০ হাজার মানুষ। সূত্র: বিবিসি, আলজাজিরা

/এফইউ/