অ্যান্টোনিন স্কালিয়াযুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি অ্যান্টোনিন স্কালিয়া মারা গেছেন। শনিবার ওয়েস্ট টেক্সাসে ঘুমন্ত অবস্থায় অ্যান্টোনিন মারা যান বলে নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের মার্শাল সার্ভিস। তার বয়স হয়েছিল ৭৯ বছর।
রক্ষণশীল অধ্যুষিত হাইকোর্ট বেঞ্চেরও একজন সদস্য ছিলেন অ্যান্টোনিন। তার মৃত্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের হাইকোর্টে রক্ষণশীল ও লিবারেলদের মধ্যে আবারও ক্ষমতার লড়াই শুরু হলো। এতোদিন হাইকোর্টের ৯ সদস্যের বেঞ্চের ৫ জনই রক্ষণশীল ছিলেন। আর হাইকোর্ট বেঞ্চে রক্ষণশীলদের সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ওবামা প্রশাসনের নেওয়া জলবায়ু ও অভিবাসনবিষয়ক বেশ কিছু পরিকল্পনা আটকে আছে। শিগগিরই কাউকে অ্যান্টোনিনের স্থলাভিষিক্ত করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন ওবামা। তবে রিপাবলিকানরা বলছে, পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত অ্যান্টোনিনের জায়গাটি ফাঁকা রাখতে।
১৯৮৬ সালে অ্যান্টোনিন স্ক্যালিয়াকে নিয়োগ দেন সেসময়কার মার্কিন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যান।
১৯৩৬ সালে নিউজার্সির ট্রেনটনে জন্ম নেওয়া অ্যান্টোনিন ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের হাইকোর্টে নিয়োজিত প্রথম ইতালীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। রক্ষণশীলদের আইনি দর্শন ‘মূলবাদ’ এর প্রবক্তাদের একজন ছিলেন তিনি। আর সে ধারণামতে অ্যান্টোনিন বিশ্বাস করতেন, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান বেশ অর্থবহ এবং সময়ের সাথে সাথে তা পরিবর্তন করার দরকার নেই।
২০০৮ সালে অ্যান্টোনিনের কলাম্বিয়ায় দেওয়া একটি মতামতের ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রে আগ্নেয়াস্ত্র বহনকে ব্যক্তিগত অধিকার বলে অনুমোদন দেওয়া হয়। গর্ভপাত এবং সমকামীদের অধিকারের ঘোর বিরোধী ছিলেন তিনি।
অ্যান্টোনিন স্কালিয়ার মৃত্যুতে মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের সামনে পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে
এদিকে অ্যান্টোনিনের মৃত্যুতে শোক জানিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেন, ‘অ্যান্টোনিন একজন অসাধারণ বিচারিক চিন্তাবিদ ছিলেন।’
শিগগিরই সিনেটের অনুমোদন নিয়ে নতুন একজনকে অ্যান্টোনিনের স্থলাভিষিক্ত করা হবে বলে জানান তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটের অনুমোদন নিয়ে সারাজীবনের জন্য সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি নিয়োগ দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। বিচারপতিদের দীর্ঘমেয়াদ, রাজনীতিতে তাদের প্রভাব এবং তাদের নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক রয়েছে।
আর তাই অ্যান্টোনিনের মৃত্যুর প্রভাব পড়বে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের লড়াইয়েও। ডেমোক্র্যাট সমর্থকরা চান ওবামা ক্ষমতায় থাকতেই নতুন কাউকে নিয়োগ দেওয়া হোক তাতে ডেমোক্র্যাটরা সংখ্যাগরিষ্ঠ হবে। আর রিপাবলিকানরা চাইছে, আসন্ন মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত এ নিয়োগ ঝুলিয়ে রাখতে। সূত্র: বিবিসি
/এফইউ/