সুপ্রিম কোর্টের ক্ষমতা হ্রাসের সংস্কার কর্মসূচির বিরুদ্ধে শুরু হওয়া ইসরায়েলের ইতিহাসের অন্যতম বড় বিক্ষোভ দশম সপ্তাহে গড়িয়েছে। শনিবার (১১ মার্চ) এই বিক্ষোভ নবম সপ্তাহ পেরিয়ে দশম সপ্তাহে গড়ায়। রবিবার (১২ মার্চ) এক প্রতিবেদনে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
বিচারব্যবস্থায় বদল আনতে ইসরায়েল সরকার দেশটির সর্বোচ্চ আদালতের ক্ষমতা হ্রাসের পরিকল্পনা করেছে। এই পদক্ষেপকে দেশটির জনগণ বিচার বিভাগের জন্য হুমকি হিসেবে দেখছে। টানা কয়েক সপ্তাহ ধরে চলমান এই প্রতিবাদ দেশটির ইতিহাসের অন্যতম বড় বিক্ষোভে পরিণত হয়েছে।
সংস্কারের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকার যত এগিয়ে যাচ্ছে, বিক্ষোভও তত বাড়ছে। দেশটির মুদ্রামানেরও দরপতন হয়েছে। বিক্ষোভ থামিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানে বিক্ষোভকারীদের আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হার্জগ ।
বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণভাবেই চলমান রয়েছে। যদিও আটকে দেওয়া সড়ক থেকে বিক্ষোভকারীদের পুলিশ সরিয়ে দেওয়ার সময় কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে প্রত্যক্ষ করেছেন রয়টার্স সাংবাদিকরা।
তেল আবিবের হাজারো বিক্ষোভকারীদের একজন তামির গুইতসাবরি (৫৮) বলেন, ‘এটিকে কোনও বিচারিক সংস্কার বলা যায় না। এর মাধ্যমে ইসরায়েল একটি স্বৈরতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরিণত হবে।’
মিরি লাহাত (৬৩) নামক এক বিক্ষোভকারী বলেন, “আমি এখানে আইনের সংস্কারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে এসেছি। এবং আমাদের প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধেও এই আন্দোলন, যাকে আমরা ‘অপরাধমন্ত্রী’ ও বলে থাকি।”
ইসরায়েলের জাতীয় পুলিশ বাহিনীর প্রধান জেনারেল ইয়াকোভ সাবতাই বিরল টেলিভিশন ভাষণে তেল আবিবের পুলিশ প্রধানের পদ রদবদলের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার ঘোষণা দিয়েছেন। এই ঘোষণাকে কঠোরভাবে বিক্ষোভ দমনের পরিকল্পনা হিসেবে দেখছে অনেকে।
তবে সাবতাই জানিয়েছেন, যতক্ষণ বৈধভাবে আন্দোলন চলবে, আন্দোলনকারীদের নিরাপত্তা দিতে পুলিশ কাজ করে যাবে। এ বিষয়ে কোনও রাজনৈতিক চাপের কাছে নতি স্বীকার করবেন না তিনি।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলছেন, এই সংস্কারের উদ্দেশ্য দেশটির সরকারের বিভিন্ন শাখার মধ্যে ভারসাম্য সৃষ্টি। এই সংস্কারের সমর্থনে পার্লামেন্টে তার সংখ্যাগরিষ্ঠতা হয়েছে। সমর্থন রয়েছে তার ধর্মীয় জাতীয়তাবাদী জোট মিত্রদের।
গতবছর ডিসেম্বর মাসে ষষ্ঠ বারের মত প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন নেতানিয়াহু। তিনি বলেছেন, তার পতনের ষড়যন্ত্রে এই আন্দোলন চালাচ্ছে বিক্ষোভকারীরা। ইতোমধ্যেই তার বিরুদ্ধে উঠে আসা তিনটি দুর্নীতির অভিযোগের সবগুলোকে অস্বীকার করেছেন তিনি।