পশ্চিমা আপত্তি সত্ত্বেও রাশিয়ার তেল কিনছে পাকিস্তান

পশ্চিমাদের আপত্তি সত্ত্বেও ভারতের পর এবার চুক্তি অনুযায়ী প্রথমবার রাশিয়ার কাছ অপরিশোধিত তেলের অর্ডার দিয়েছে পাকিস্তান। পাকিস্তানের জ্বালানিমন্ত্রী জানান, চুক্তি অনুযায়ী আগামী মে মাসে করাচি বন্দরে ভিড়বে প্রথম চালান। বৃহস্পতিবার (২০ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

ইউক্রেনে হামলার কারণে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপীয় ইউনিয়নের বহু নিষেধাজ্ঞায় রয়েছে রাশিয়া। এ অবস্থায় এশিয়ার দেশগুলোর দিকে অপরিশোধিত তেল বিক্রিতে ঝুঁকছে মস্কো। যুদ্ধ চলা অবস্থায় ভারত ও চীন মস্কোর অপরিশোধিত তেল ক্রয় করে। এখন ভারতের পার্শ্ববর্তী দেশ পাকিস্তানও একই পথে হাঁটলো। অবশ্য রাশিয়া নিজেদের অপরিশোধিত তেল কম মূল্যে খোলা বাজারে ছেড়েছে।

কম মূল্যে রাশিয়ার কাছ থেকে অপরিশোধিত তেল ক্রয়ের একটি বড় কারণ যা হতে পারে, তা হলো দীর্ঘদিন ধরে চরম অর্থনৈতিক সংকটে ভুগছে পাকিস্তান। রুপির মানও পড়ে গেছে।

এ প্রসঙ্গে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে পাকিস্তানের মন্ত্রী মুসাদ মালিক বলেন, চুক্তির অধীনে শুধু অপরিশোধিত জ্বালানি তেল কিনবে ইসলামাবাদ। পরিশোধিত তেল না। চুক্তি ভালোভাবে সম্পন্ন হলে, আমদানি দৈনিক গড়ে ১০ হাজার ব্যারেলে পৌঁছাবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

চুক্তির সঙ্গে থাকা মস্কোর একটি সূত্র রয়টার্সকে জানায়, সম্প্রতি মস্কো-ইসলামাবাদের মধ্যে চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। এ বিষয়ে রুশ সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনও মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক সূত্র জানায়, পাকিস্তানে উরাল গ্রেডের তেল সরবরাহের পরিকল্পনা করছে রাশিয়া।

পাকিস্তান তাদের অপরিশোধিত তেলের বেশিরভাগই সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে আমদানি করে থাকে। এখন রাশিয়া থেকে তেল আমদানি করলে এ দুই দেশ থেকে পাকিস্তানের আমদানি অনেকটাই কমে যেতে পারে। ২০২২ সালে পাকিস্তান দিনে গড়ে ১ লাখ ৫৪ হাজার ব্যারেল তেল আমদানি করেছে, যা আগের বছরের চেয়ে অনেকটাই কম। এ তথ্য জানা গেছে তথ্য বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলার থেকে।

রাশিয়ার জ্বালানিমন্ত্রী নিকোলাই শুলগিনভ জানুয়ারিতে ইসলামাবাদে একটি প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। এরপর তিনি বলেছিলেন, মার্চের পর পাকিস্তানে তেল রফতানি শুরু হতে পারে।