সাবেক ফার্স্ট লেডি ন্যান্সি রিগ্যানের মৃত্যু, ওবামার শোক

চলে গেলেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ফার্স্ট লেডি ন্যান্সি রিগ্যান । রোববার ৯৪ বছর বয়সে লস অ্যাঞ্জেলসে তিনি মারা যান। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে। তার মৃত্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাসহ জ্যেষ্ঠ রাজনীতিকরা শোক ও শ্রদ্ধা প্রকাশ করেছেন।

রিগ্যান ও ন্যান্সি

প্রয়াত সাবেক প্রেসিডেন্ট স্বামী রোনাল্ড রিগ্যানের পাশেই তাকে সমাহিত করা হবে বলে প্রেসিডেন্সিয়াল লাইব্রেরির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। ২০০৪ সালে মারা যান রোনাল্ড রিগ্যান।

উল্লেখ্য, মার্কিন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যানের সঙ্গে তার ৫২ বছরের দাম্পত্যজীবন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টদের প্রেমের ক্ষেত্রে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে রয়েছে।

স্বামীর মরদেহে ন্যান্সি

১৯৮১ থেকে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি ছিলেন ন্যান্সি। তাকে মার্কিন ইতিহাসে অন্যতম প্রভাবশালী ফার্স্ট লেডি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। রিগ্যানের মত ন্যান্সিও একসময় হলিউডে কাজ করেছেন। ডেভিস নামে  একটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। পরবর্তী সময়ে তৎকালীন সুপরিচিত অভিনেতা রোনাল্ড রিগ্যানকে বিয়ে করেন।

প্রথমদিকে হোয়াইট হাউজের সংস্কারের জন্য অত্যধিক ব্যয়ের কারণে সমালোচিত হলেও পরবর্তী সময়ে তিনি সবার ভালোবাসার ব্যক্তিত্বে পরিণত হন। তার মাদক বিরোধী প্রচারাভিযানও বেশ আলোচিত ছিল।

সবসময় স্বামীর সহযোদ্ধা ছিলেন ন্যান্সি

তার মৃত্যুর পর এক শোক বিবৃতিতে ওবামা পরিবার জানিয়েছে, “ন্যান্সি রিগ্যান একবার লিখেছিলেন, কোনোকিছুই আপনাকে হোয়াইট হাউজে বসবাসের জন্য প্রস্তুত করতে পারে না। তিনি সঠিক ছিলেন অবশ্যই।” বিবৃতিতে আরো বলা হয়, আমরা সৌভাগ্যবান কারণ তার উদাহরণ আমাদের উপকৃত করেছে। ওবামার মন্তব্য, ন্যান্সি রিগ্যান মার্কিন ফার্স্ট লেডিদের ভূমিকাকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করেছেন।

ফাইল ছবি, ওবামার সঙ্গে ন্যান্সি

এদিকে সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ বলেন, “প্রিয় স্বামীর প্রতি অত্যধিক অনুগত ছিলেন ন্যান্সি। আর এই আনুগত্য দেশের প্রতি তার আনুগত্যের সঙ্গে মিশে গিয়েছিল। হোয়াইট হাউজের উপর তার প্রভাব ছিল পূর্ণ এবং স্থায়ী।”

সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন ও সাবেক ফার্স্ট লেডি এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন বলেন, “ন্যান্সি ছিলেন একজন অসাধারণ নারী এবং সহৃদয় ফার্স্ট লেডি, একজন গর্বিত মা ও প্রেসিডেন্ট রিগ্যানের প্রতি নিবেদিতা স্ত্রী।”

/বিএ/