মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের সিদ্ধান্তে ফিলিপাইনের সমালোচনা করলো চীন  

দক্ষিণ চীন সাগরে আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের চিন্তা করছে ফিলিপাইনের সেনাবাহিনী। সোমবার (২৩ ডিসেম্বর) ম্যানিলা এই বক্তব্য দেওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই তাদের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে সতর্ক করেছে চীন। মার্কিন বার্তাসংস্থা এপি এ খবর জানিয়েছে। 

ফিলিপাইনের লেফটেন্যান্ট জেনারেল রয় গালিডো সাংবাদিকদের বলেছেন, মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছি আমরা। তাই এ নিয়ে পরিকল্পনা ও আলোচনা চলছে। 

এর সমালোচনা করে চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং বলেছেন, ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ও অস্ত্র প্রতিযোগিতার ঝুঁকি উসকে দিচ্ছে ফিলিপাইন। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ইতিহাস, জনগণ ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য এটি হবে অবিবেচকের মতো সিদ্ধান্ত। 

চলতি বছর এপ্রিলে ফিলিপাইনের উত্তরাঞ্চলে টাইফুন ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা মোতায়েন করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। তখন থেকেই ভারী অস্ত্রশস্ত্র ব্যবহারে দক্ষতা অর্জনে উভয় সেনাবাহিনী যৌথভাবে প্রশিক্ষণ করে আসছে। 

ফিলিপাইনে মার্কিন সামরিক সহায়তার বিষয়টি খুব একটা ভালো চোখে নিচ্ছে না চীন। বিশেষত টাইফুন নিয়ে যথেষ্ট উদ্বেগে রয়েছে তারা। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চীনের প্রভাব হ্রাস করতে বাইডেনের আমলে এই অঞ্চলের দেশগুলোর সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক দৃঢ় করেছে যুক্তরাষ্ট্র। 

অবশ্য গালিডো বলেছেন, টাইফুন ক্রয়ের নির্দিষ্ট কোনও পরিকল্পনা ম্যানিলা করেনি। অস্ত্র ক্রয়ের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও বন্ধুসুলভ অন্যান্য দেশের সঙ্গেও আলোচনা করা হচ্ছে।  

ফিলিপাইনের একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চল বা এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোনের (ইইজেড) বিস্তার প্রায় দুইশ নটিক্যাল মাইল বা ৩৭০ কিলোমিটার। এই পুরো এলাকা চীনের প্রভাব থেকে নিরাপদ রাখতে পরিপূর্ণ প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে চাচ্ছে দেশটি। 

গালিডো বলেছেন, ফিলিপাইনের নৌ ও বিমানবাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে ইইজেডের পরিধি পর্যন্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করা সেনাবাহিনীর প্রধান লক্ষ্য।