ইউনের অভিশংসনের রায়ে বিলম্ব সামাজিক বিভাজন বৃদ্ধি করছে, অভিযোগ বিরোধীদলের  

দক্ষিণ কোরিয়ার অভিশংসিত প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলের রায় দিতে বিলম্ব করায় দেশে সামাজিক বিভাজন গভীর হচ্ছে বলে দাবি করেছে প্রধান বিরোধী দল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি। এভাবে দেশবাসীকে অপেক্ষা করিয়ে রাখাকে দায়িত্বজ্ঞানহীনতার নামান্তর বলে মন্তব্য করেছে তারা। একই বক্তব্যে সোমবার (১৬ মার্চ) সাংবিধানিক আদালতকে দ্রুত রায় দেওয়া আহ্বান করেছে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি। ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

দলটির অন্যতম নেতা কিম মিন সেওক বলেছেন, দেশের জনগণ সহ্যের প্রায় শেষ সীমায় পৌঁছে গেছে। আমরা আদালতের সিদ্ধান্ত পাওয়ার অপেক্ষায় আছি। আরও বিলম্ব করা হবে দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয় এবং আমাদের কাছে সেটা গ্রহণযোগ্য হবে না।

টানা তৃতীয় সপ্তাহের মতো আট সদস্যের আদালতে অভিশংসনের শুনানি চলছে। এরমধ্যে ইউনের পুনর্বহাল বা স্থায়ী অপসারণ নিয়ে তার সমর্থক ও বিরোধীদের মধ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা কেবল বৃদ্ধি পাচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত ডিসেম্বরে সামরিক আইন জারি করার দায়ে পার্লামেন্টে অভিশংসিত হন প্রেসিডেন্ট ইউন। তার বিরুদ্ধে সংবিধান লঙ্ঘনের অভিযোগ আনে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি। অভিশংসন প্রস্তাবে বলা হয়, ইউন তার কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আইনের শাসনকে মারাত্মক হুমকির মুখে ফেলেছেন। ফলে, তিনি  প্রেসিডেন্ট পদে থাকার যোগ্যতা হারিয়েছেন।

গত ২৫ ফেব্রুয়ারি আদালতে যুক্তিতর্ক গ্রহণ শেষ হয়। সেখানে আত্মপক্ষ সমর্থন করে ইউন দাবি করেছেন, পুরোপুরি সামরিক শাসন জারি করার আকাঙ্ক্ষা তার ছিল না। রাষ্ট্রবিরোধী শক্তিকে মূল থেকে উৎপাটন করতে তিনি সামরিক আইন জারির ঘোষণা দিয়েছিলেন।

ইউনের অভিশংসনের রায় আসতে তুলনামূলক বেশি সময় লাগছে। এর আগে ২০১৭ সালে, তৎকালীন প্রেসিডেন্ট পার্ক গিউন হায়ের অভিশংসন শুনানির চূড়ান্ত যুক্তিতর্ক গ্রহণের মাত্র ১১ দিন পর তাকে স্থায়ীভাবে অপসারণ করে সাংবিধানিক আদালত।

বিগত কয়েকদিন ধরে রাজধানী শহর সিউলে পাল্টাপাল্টি সমাবেশ করছেন ইউনের সমর্থক ও বিরোধীরা। বিরোধীদের অভিযোগ, অভিশংসিত প্রেসিডেন্টের রায়ে বিলম্ব হওয়ায় তাদের মধ্যে হতাশা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

এদিকে, রাষ্ট্রদ্রোহে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য ভিন্ন একটি মামলায় অভিযুক্ত হয়েছেন ইউন। এটি প্রমাণিত হলে তার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এমনকি মৃত্যুদণ্ডও হতে পারে।

ইউনের সামরিক আইন ঘোষণার ফলে দেশের রক্ষণশীল ও উদারপন্থিদের মধ্যে বিভাজন আরও গভীর হয়েছে। একইসঙ্গে, সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে অচলাবস্থা দেখা দেওয়ায় নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়া ব্যাহত হচ্ছে।

সামরিক আইন জারিকে ঘিরে সামরিক বাহিনীর কয়েকজন শীর্ষ কমান্ডারকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলার শুনানি চলছে। এদিকে, সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী কিম ইয়ং হিউনের বিরুদ্ধে দায়ের করা রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার যুক্তিতর্ক গ্রহণ শুরু হয়েছে।

ইউনের অভিশংসনের পর প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পান প্রধানমন্ত্রী হান ডাক সু। তবে কিছুদিন পর তাকেও অভিশংসিত করা হয়। বর্তমানে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন দেশটির অর্থমন্ত্রী চোই সাং মোক।