ওয়াশিংটন-নয়াদিল্লি চলমান দ্বন্দ্বে রাজনৈতিক ঐক্য প্রদর্শন করলেন ভারতীয় নেতারা। রাশিয়া থেকে জ্বালানি তেল ক্রয়কে কেন্দ্র করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকির প্রতিক্রিয়ায় ভারতের ক্ষমতাসীন ও বিরোধীদলীয় আইনপ্রণেতারা মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) কড়া সমালোচনা করেছেন। ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
ভারতীয় পার্লামেন্টের সদস্য এবং বিরোধীদল কংগ্রেসের নেতা মনিষ তিওয়ারি বলেছেন, ট্রাম্পের বক্তব্য ভারতের সম্মান ও আত্মমর্যাদায় আঘাত হেনেছে। এখন সময় এসেছে অব্যাহত হুমকি ও অপমানের জবাব দেওয়ার।
প্রভাবশালী মার্কিন সাবেক কূটনীতিবিদ হেনরি কিসিঞ্জারের একটি উদ্ধৃতি ব্যবহার করে ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সহ-সভাপতি বাজিয়ানাত জয় পান্ডা বলেছেন, আমেরিকার শত্রু হওয়া বিপজ্জনক কিন্তু মিত্র হওয়া আত্মঘাতী।
জুলাই মাসে ভারতীয় পণ্যের ওপর ইতোমধ্যে ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন ট্রাম্প। এরমধ্যেই সোমবার নিজ মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে তিনি বলেন, রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা বন্ধ না করলে ভারতের ওপর শুল্ক বৃদ্ধি করা হবে।
রাশিয়ার তেল ক্রয়ের জন্য এককভাবে ভারতকে কাঠগড়ায় দাড় করানো অন্যায় মন্তব্য করে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তরফ থেকে বলা হয়, ইউক্রেনের যুদ্ধ সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) মস্কোর সঙ্গে তাদের বাণিজ্যিক সম্পর্ক বহাল রেখেছে।
তাদের বিবৃতিতে বলা হয়, গত বছর রেকর্ড পরিমাণ এক কোটি ৬৫ লাখ মেট্রিক টন তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানিসহ প্রায় সাত হাজার আটশ কোটি ডলারের বাণিজ্য করেছে ইইউ।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, রাশিয়া থেকে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য ইউরেনিয়াম হেক্সাফ্লোরাইড, প্যালেডিয়াম, সার ও বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ আমদানি চালিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।
তবে এসব দাবির পক্ষে কোনও সূত্র ওই বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়নি।
ভারতের প্রতিক্রিয়ার জবাবে নয়াদিল্লিস্থ মার্কিন দূতাবাস এবং ইইউ প্রতিনিধিদের তরফ থেকে কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
২০২২ সালে ইউক্রেনে পূর্ণ মাত্রার আগ্রাসনের পর থেকে রাশিয়ার সঙ্গে তাদের বাণিজ্যিক সম্পর্ক ব্যাপকভাবে সীমিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইইউ। অথচ ২০২১ সালে রাশিয়া ছিল ইইউয়ের পঞ্চম বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার।
রয়টার্সের তথ্য অনুসারে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ভারত প্রতিদিন গড়ে সাড়ে ১৭ লাখ ব্যারেল রুশ তেল আমদানি করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ১ শতাংশ বেশি।
ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই ভারতকে রাশিয়া থেকে দূরে থাকার জন্য পশ্চিমা দেশগুলোর চাপের মুখে পড়তে হয়েছে। কিন্তু রাশিয়ার সঙ্গে দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক সম্পর্ক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতার কারণে এ বিষয়ে বারবার অনীহা জানিয়ে এসেছে নয়াদিল্লি।