বাংলাদেশে শিক্ষার্থী হত্যায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ভারতে গ্রেফতার

বাংলাদেশে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এক আসামিকে ভারত থেকে গ্রেফতার করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়ার শনিবার (৯ আগস্ট) প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ খবর জানা গেছে।

পুলিশের বয়ানে জানা গেছে, আটক ব্যক্তি হচ্ছে ৩৭ বছর বয়সী মোহাম্মদ জামাল হোসেন পতুনদার। সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে দক্ষিণ মুম্বাইয়ের কামাঠিপুরা থেকে তাকে আটক করা হয়। তার বাড়ি বাংলাদেশের রাজবাড়ি জেলায় গোলানদাঘাট উপজেলার গাড় ফেলু মাওলা পাড়া গ্রামে।

ভারতীয় তদন্ত কর্মকর্তাদের বয়ানে জানা গেছে,  অভিযুক্ত ব্যক্তি ২০২৩ সাল থেকে ভারতে বসবাস করছিল বলে কর্তৃপক্ষের কাছে তথ্য রয়েছে। তার বিরুদ্ধে প্রতারণা, জালিয়াতি, বিশ্বাসভঙ্গ এবং বিদেশি আইনসহ অভিবাসী আইনের আওতায় অভিযোগ দায়ের করা হচ্ছে।

কর্মকর্তারা আরও বলেন, আটক ব্যক্তি বাংলাদেশের মৃত্যুদণ্ড আসামি এবং সে কোনও রকম পালিয়ে যেতে সমর্থ হয়। এরপর থেকে তার খোঁজ করা হচ্ছে।

বাংলাদেশের আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়ন বিএনপির নেতা ও দৌলতদিয়া বাজার ব্যবসায়ী পরিষদের সাবেক সভাপতি মোহন মণ্ডলের ছেলে সাউথইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ছাত্র সাইফুল ইসলাম রিপনের মাথায় ও বুকে গুলি করে হত্যা করে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। এ সময় তার সঙ্গে থাকা বন্ধু ফরিদ শেখও গুলিবিদ্ধ হন।

এ ঘটনায় রিপনের মামা খলিল মণ্ডল বাদী হয়ে ৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৮-১০ জনের বিরুদ্ধে গোয়ালন্দঘাট থানায় হত্যা মামলা করেন। একই বছরের ২৬ সেপ্টেম্বর মামলার প্রধান আসামি জামাল পতুনদারকে হত্যায় ব্যবহৃত সেভেন পয়েন্ট সিক্স ফাইভ বোরের পিস্তল ও এক রাউন্ড গুলিসহ গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপর সে হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়।

পরে পুলিশ ১৩ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। দীর্ঘ সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত ২০২৩ সালের ৬ আগস্ট রাজবাড়ি জেলা ও দায়রা জজ মোছা. জাকিয়া পারভীন রিপন হত্যা মামলায় জামাল পতুনদারকে মৃত্যুদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করেন। এ সময় অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় ১২ আসামিকে খালাস দেয়া হয়। তবে জামিনে বের হয়ে পলাতক থাকায় রায় ঘোষণার সময় মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত জামাল পতুনদার আদালতে অনুপস্থিত ছিল।

ভারতীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পালিয়ে যাওয়ার পর ভারতে ভুয়া পরিচয় প্রতিষ্ঠিত করার জন্য জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছিল পতুনদার। তার কাছ থেকে জব্দ করা জিনিসের মধ্যে রয়েছে- আধার কার্ড, পিএএন কার্ডের ফটোকপি, ভোটার আইডি, স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার পাসবই, আধার হালনাগাদের স্বীকৃতি এবং বাংলায় লেখা একটি গ্রেফতারি পরোয়ানা। প্রাথমিকভাবে গুগল ট্রান্সলেটর ব্যবহার করে পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে, পরোয়ানাটি বাংলাদেশের একটি আদালত পতুনদারের বিরুদ্ধে জারি করেছিল।

নকল ভারতীয় নথি তৈরিতে তার সহযোগী ছিল কিনা, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এছাড়াও, তার কার্যকলাপের পেছনে বড় ধরনের আন্তঃসীমান্ত যোগসাজশ রয়েছে কি না, তা যাচাই করতে অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ তাকে বাংলাদেশে প্রত্যর্পণের পরিকল্পনা করছে।