মার্কিন রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে দেশটির তিনটি ভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে ন্যাশনাল গার্ডের কয়েকশ' সদস্যকে পাঠানো হচ্ছে। ওয়াশিংটনকে 'অপরাধ ও গৃহহীন ব্যক্তির দৌরাত্ম্য' ঝেটিয়ে বিদায় করতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগে সহায়তা করতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যের রিপাবলিকান গভর্নররা। ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
ডিসির কয়েকশ মাইল দূরের তিন অঙ্গরাজ্য ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া, সাউদ ক্যারোলাইনা এবং ওহাইও থেকে শনিবার (১৬ আগস্ট) ন্যাশনাল গার্ডের সদস্য প্রেরণের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়।
ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার গভর্নর প্যাট্রিক মরিসের কার্যালয় থেকে জানানো হয়, জননিরাপত্তার প্রতি দায়িত্ববোধ ও আঞ্চলিক সহায়তার অঙ্গীকার স্বরূপ তারা ডিসিতে তিন থেকে চারশ সদস্য পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
মার্কিন গোয়েন্দা বিভাগের সদর দফতর পেন্টাগনের অনুরোধের জবাবে দুইশ সদস্য পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছেন সাউদ ক্যারোলাইনা গভর্নর হেনরি ম্যাকমাস্টার। আর ওহাইও গভর্নর মাইক ডেওয়াইন জানিয়েছেন, তিনি শিগগিরই দেড়শ ন্যাশনাল গার্ড প্রেরণ করবেন।
মার্কিন ন্যাশনাল গার্ড হচ্ছে একটি মিলিশিয়া বাহিনী, যারা কেন্দ্রীয় আদেশে কোনও দায়িত্ব পালনের সময় ব্যতীত নির্দিষ্ট রাজ্যের সেবায় নিয়োজিত থাকে। ৫০ অঙ্গরাজ্যের ন্যাশনাল গার্ডের দায়িত্বে থাকেন সংশ্লিষ্ট গভর্নর। আর ডিসির মিলিশিয়া বাহিনী সরাসরি প্রেসিডেন্টের কাছে জবাবদিহি করে।
সাধারণত বেসামরিকদের ওপর আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন করা হয় না। বাহিনীটি মূলত জাতীয় দুর্যোগে দায়িত্ব পালনের কাজগুলোই বেশি করে থাকে।
চলতি সপ্তাহে এক ঘোষণায় ট্রাম্প বলেন, ডিসিতে অপরাধ ও গৃহহীনদের সমস্যার কারণে জরুরি অবস্থা বিরাজ করছে। এ সমস্যা সমাধানে তিনি সাময়িকভাবে রাজধানীর পুলিশ বিভাগের নিয়ন্ত্রণ নেবেন এবং ডিসিতে কয়েকশ' ন্যাশনাল গার্ড নামাবেন।
তবে বিচার বিভাগের তথ্য যাচাই করে রয়টার্স বলেছে, ২০২৪ সালে তিন দশকে সবচেয়ে কম সহিংস অপরাধ ডিসিতে সংঘটিত হয়েছে।
ট্রাম্পের ঘোষণার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ডিসির মেয়র বাউজার বলেছেন, মার্কিন সেনা দিয়ে নিজ দেশের নাগরিকদের ওপর পুলিশিং করানো মোটেই আমেরিকান কোনও উদ্যোগ নয়।
এদিকে, হোয়াইট হাউজ জানিয়েছে, ন্যাশনাল গার্ড সদস্যরা ফেডারেল স্থাপনা রক্ষা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহায়তা প্রদান এবং অপরাধ দমনে দৃশ্যমান উপস্থিতি তৈরি করতে মাঠে নামছেন।
এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তাদের অস্ত্র বহনের অনুমোদন দেওয়ার আনুষ্ঠানিক আদেশ আসছে শিগগিরই। আপাতত ন্যাশনাল গার্ড সদস্যরা ওয়াশিংটনের ন্যাশনাল মল ও ইউনিয়ন স্টেশনের আশপাশে টহল দিচ্ছেন, তবে গ্রেফতার কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন না।
প্রশাসন কীভাবে অন্যত্র ন্যাশনাল গার্ড পাঠাবে, তা এখনও পরিষ্কার নয়। এদিকে, লস অ্যাঞ্জেলেসে ট্রাম্পের সেনা মোতায়েনে আইন ভঙ্গ হয়েছে কিনা, সে বিষয়ে স্যান ফ্রান্সিসকোর একটি আদালত শিগগিরই রায় দেবে।