দিনের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক খবর

বিশ্বের রাজনৈতিক আকাশে প্রতিদিনই নতুন মেঘ জমছে, নতুন ঝড় উঠছে। বৈশ্বিক নীতি-নির্ধারণের নীরব সিদ্ধান্ত থেকে শুরু করে ভূ-রাজনীতির জটিল খেলা, কূটনীতির অদৃশ্য সুতো, সংঘাতের আগুন এবং প্রতিরক্ষা খাতের নীরব প্রস্তুতি- সবকিছু মিলিয়ে যেন এক অবিরাম পরিবর্তন চলছে। এই পরিবর্তনের প্রতিটি দৃশ্য আজকের বিশ্বব্যবস্থাকে নতুন করে গড়ে তুলছে, ভবিষ্যতের দিকনির্দেশনা দিচ্ছে। ৫ জুলাই (রবিবার) বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনগুলোর কয়েকটি পাঠকদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সাড়া ফেলেছে।

ভেবেছিলাম মানুষ তাকে ঘৃণা করে: খামেনির জানাজায় মানুষের কান্নায় বিস্মিত ট্রাম্প; খামেনির জানাজায় ট্রাম্পের মৃত্যুর আহ্বান, স্লোগানে মুখর তেহরান; যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা কি একা এনে দিয়েছিলেন জর্জ ওয়াশিংটন; আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি: ইরানের প্রতিরোধের স্থপতি; খামেনির শেষ বিদায়ে কোরআনের আয়াত দিয়ে বিশ্বকে কঠিন বার্তা দিলো ইরান; যুদ্ধের মধ্যেও কীভাবে ‘নিরপেক্ষ’ থাকছে এরদোয়ানের তুরস্ক- এই খবরগুলো নিয়ে সাজানো হয়েছে আজকের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলোর এই সংকলন। 

 

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শেষ বিদায়ে ইরানিদের কান্না দেখে বিস্ময় প্রকাশ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, তিনি ভাবতেন মানুষ খামেনিকে ‘ঘৃণা’ করে। তবে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে তিনি আরও বলেন, হতে পারে ওগুলো সব মায়াকান্না। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এসব কথা বলেন।

 

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে লাখ লাখ মানুষের উপস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যার ডাক দেওয়া হয়েছে। রাজধানী তেহরানে অনুষ্ঠিত এই জানাজায় এক উপস্থাপক ট্রাম্পের মৃত্যু কামনা করে বক্তব্য দেন। মার্কিন বার্তা সংস্থা এপি এ খবর জানিয়েছে।

 

যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা যুদ্ধকে অনেক সময়ই জর্জ ওয়াশিংটন ও তার তুলনামূলকভাবে অগোছালো সেনাবাহিনীর একক বিজয় হিসেবে তুলে ধরা হয়। তবে ইতিহাস বলছে, বাস্তবতা ছিল আরও জটিল। ফ্রান্স ও স্পেনের সমন্বিত সামরিক, নৌ ও আর্থিক সহায়তা না পেলে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে আমেরিকান বিদ্রোহ টিকে থাকাই কঠিন হতো।

 

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে একটি ধারণা ছিল, সর্বোচ্চ মাত্রার চাপ, নিষেধাজ্ঞা, কূটনৈতিক বিচ্ছিন্নতা এবং সামরিক ঝুঁকি একসময় আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে নতিস্বীকারে বাধ্য করবে। তবে এই ধারণা ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতার রাজনৈতিক দর্শন ও মানসিকতাকে পুরোপুরি ধারণ করতে পারেনি। তার কাছে ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’ ছিল না কোনও রাজনৈতিক বিকল্প; বরং তা ছিল তার আদর্শিক পরিচয় থেকে বিচ্যুতি।

 

তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় উপচে পড়া শ্রদ্ধার মধ্য দিয়ে প্রয়াত সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা চলছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ইতোমধ্যে তেহরানে তাদের প্রতিনিধি দল পাঠিয়েছে। তবে এই শোকের আবহকে ইরান একটি সুপরিকল্পিত কূটনৈতিক মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করছে, যার মূল লক্ষ্য হলো, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চাপিয়ে দেওয়া এই যুদ্ধে তেহরানই যে বিজয়ী হয়েছে, তা বিশ্বমঞ্চে ফুটিয়ে তোলা।

 

আঙ্কারায় পশ্চিমাদের সামরিক জোট ন্যাটোর ৩৬তম শীর্ষ সম্মেলন আয়োজনকে কেন্দ্র করে বিশ্বরাজনীতির স্পটলাইট এখন তুরস্কের ওপর। সাম্প্রতিক মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাস ও বৈশ্বিক উথাল-পাথালের এই চরম অস্থিতিশীল সময়েও নিজেকে শান্ত ও স্থিতিশীলতার এক অনন্য দ্বীপ হিসেবে ধরে রাখার দাবি করে আসছে দেশটি। আগামী ৭ ও ৮ জুলাই অনুষ্ঠেয় এই শীর্ষ সম্মেলনে ইউরোপের ৩০টি এবং উত্তর আমেরিকার দুটি দেশের নেতাদের স্বাগত জানাবেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান। ২০০৪ সালের পর এই প্রথম উচ্চপর্যায়ের এই হাই-প্রোফাইল ইভেন্টটি একক স্বাগতিক দেশ হিসেবে আয়োজন করছে তুরস্ক।