তুরস্কের এজিয়ান সাগরের তীরে অবস্থিত ঐতিহাসিক শহর বোদ্রুম (প্রাচীন হ্যালিকারনাসাস)। আজ তা তারকা ও পর্যটকদের স্বর্গরাজ্য হলেও আড়াই হাজার বছর আগে এটি ছিল এক অদ্ভুত ও রক্তক্ষয়ী রাজবংশের কেন্দ্রবিন্দু।
খ্রিষ্টপূর্ব ৩৫০ অব্দে এই পাহাড়ের চূড়ায় নির্মিত হয়েছিল হ্যালিকারনাসাসের মসলিয়াম, যা প্রাচীন বিশ্বের সপ্তম আশ্চর্যের অন্যতম। তবে সবচেয়ে অবিশ্বাস্য বিষয় হলো, এই স্থাপত্যটি গড়ে উঠেছিল এক ভাই-বোনের বিয়ের পর শোক থেকে!
খ্রিষ্টপূর্ব ৩৯৫ থেকে ৩৬৬ অব্দের মধ্যে এ অঞ্চল শাসন করতেন হেকাটমনড রাজবংশের রাজা মসলাস এবং তার বোন-স্ত্রী দ্বিতীয় আরটেমিসিয়া। ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় রাখতে ও দেবতাদের অনুকরণে ভাই-বোনের এই বিয়ে ছিল এক প্রতীকী মিলন।
পরবর্তীতে মসলাস মারা গেলে আরটেমিসিয়া গ্রিক, মিসরীয় ও লিসিয়ান স্থাপত্যশৈলীর মিশ্রণে এক বিশাল সমাধি মন্দির নির্মাণ শুরু করেন। কিংবদন্তি রয়েছে, স্বামীর মৃত্যুশোকে কাতর আরটেমিসিয়া মদের সঙ্গে মসলাসের ভস্ম মিশিয়ে পান করেছিলেন। তবে মাত্র দুই বছর পরই তিনি চরম বিষাদে মারা যান।
মসলাসের এই বিশাল স্থাপত্য নির্মাণের খরচ উঠাতে অদ্ভুত সব কর বসানো হয়েছিল, যার মধ্যে একটি ছিল পুরুষদের লম্বা চুলের ওপর কর! গাইড ওরহান ক্যান জানান, রাজা লম্বা চুল দেওয়ার বা কর পরিশোধের নির্দেশ দিতেন। সেই চুল তিনি পারস্যের অভিজাতদের পরচুলা তৈরিতে পাঠাতেন।
পরবর্তীতে ১২০০ থেকে ১৫০০ শতকের মধ্যে ভূমিকম্পে ঐতিহাসিক এই সমাধিটি ধ্বংস হয়ে যায়। ১৯ শতকে ব্রিটিশ প্রত্নতাত্ত্বিক চার্লস নিউটন এর ধ্বংসাবশেষ উন্মোচন করে মূল অংশগুলো লন্ডনের ব্রিটিশ মিউজিয়ামে নিয়ে যান। তবে এর কিছু মার্বেল পাথর দিয়ে নির্মিত বোদ্রুম ক্যাসল এখনও তুরস্কের আকাশে দাঁড়িয়ে ইতিহাসের সাক্ষ্য দিচ্ছে।
সূত্র: সিএনএন