যুক্তরাজ্যের এক আলোচিত হত্যা মামলায় র্যাচেল ফুলস্টো নামের এক নারীকে হত্যাকাণ্ডের সময় ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ১০০ মাইল দূরে থাকা সত্ত্বেও ‘জয়েন্ট এন্টারপ্রাইজ’ আইনের অধীনে হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।
ঘটনার শুরু যেভাবে
২০১৯ সালে ডেটিং অ্যাপ টিন্ডারে র্যাচেল ফুলস্টো ও লিয়াম স্মিথ নামের এক ইলেকট্রিশিয়ানের পরিচয় হয় এবং তারা ইয়র্কে একসঙ্গে সময় কাটান। ফুলস্টো পরে দাবি করেন, ওই রাতে তাদের মধ্যে যা ঘটেছিল তা ছিল অসম্মতিমূলক।
পরের বছর, ২০২১ সালে, ফুলস্টো মাইকেল হিলিয়ারের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান। হিলিয়ার জানতে পারেন যে ফুলস্টো আগে স্মিথের সঙ্গে ‘ধর্ষণের শিকার’ হয়েছিলেন বলে বিশ্বাস করেন তিনি, যদিও ফুলস্টো এ নিয়ে পুলিশে অভি যোগ করতে রাজি হননি।
পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড
আদালতে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এই দম্পতি মিলে স্মিথকে ‘শায়েস্তা’ করার পরিকল্পনা করেন। তারা অনলাইনে তার ঠিকানা খুঁজে বের করেন, তার পরিচয় গোপন রাখতে জাল নম্বরপ্লেটযুক্ত একটি গাড়ি কেনেন এবং হিলিয়ার শেফিল্ড থেকে উইগানে গিয়ে সারাদিন স্মিথের বাড়ির সামনে অপেক্ষা করেন।
২০২২ সালের ২৪ নভেম্বর সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটের দিকে, হিলিয়ার একটি রূপান্তরিত ব্ল্যাংক-ফায়ারিং পিস্তল দিয়ে স্মিথের মুখে গুলি করেন এবং পরে তার দেহে সালফিউরিক অ্যাসিড ও সোডিয়াম কার্বোনেট ঢেলে দেন। হত্যাকাণ্ডের কয়েকদিন পরই এই দম্পতি জ্যামাইকায় ছুটি কাটাতে যান।
বিচার ও রায়
তদন্তে দেখা যায়, ফুলস্টো হত্যাকাণ্ডের প্রস্তুতি, পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে সহায়তা করেছিলেন এবং পুলিশকে বিভ্রান্ত করতে মিথ্যা তথ্যও দিয়েছিলেন। যদিও হত্যার সময় তিনি ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ১০০ মাইল দূরে ছিলেন, প্রসিকিউশন প্রমাণ করে যে তিনি এই হত্যাকাণ্ডে সমান দায়ী।
ম্যানচেস্টারের মিনশাল স্ট্রিট ক্রাউন কোর্টে ছয় সপ্তাহের বিচার শেষে উভয়কেই হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। হিলিয়ারকে ৩৩ বছরের সর্বনিম্ন মেয়াদসহ যাবজ্জীবন এবং ফুলস্টোকে হত্যা ও ন্যায়বিচার বিঘ্নিত করার দায়ে ৩০ বছরের সর্বনিম্ন মেয়াদসহ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
কারাগার থেকে নতুন দাবি
বর্তমানে এইচএমপি স্টিয়াল কারাগারে সাজা ভোগ করা ফুলস্টো সম্প্রতি বিবিসি সাংবাদিকদের কাছে পাঠানো একটি দীর্ঘ বিবৃতিতে দাবি করেছেন যে হিলিয়ারের সঙ্গে তার সম্পর্কটি ছিল চরম মাত্রার নিয়ন্ত্রণমূলক এবং নির্যাতনমূলক। এই দাবিকে কেন্দ্র করে একটি তথ্যচিত্র তৈরি হয়েছে, যা যুক্তরাজ্যের ‘জয়েন্ট এন্টারপ্রাইজ’ আইন নিয়ে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে।
ওয়েস্টমিনস্টার কমিশন অন জয়েন্ট এন্টারপ্রাইজের কমিশনার কিম জনসন এমপি বলেছেন, কোনও নারীর শুধু কাকে চেনেন বা কাকে ভালোবাসেন, অথবা নিয়ন্ত্রণমূলক ও নির্যাতনমূলক সম্পর্ক থেকে বের হতে না পারার কারণে তার স্বাধীনতা হারানো উচিত নয়। এই আইন সংস্কারের দাবিও উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।
নিহত লিয়াম স্মিথের পরিবার আদালতের বাইরে জানায়, তিনি নির্দোষ ছিলেন এবং প্রকাশ্যে নিজের নাম পরিষ্কার করার সুযোগ থেকে তিনি বঞ্চিত হয়েছেন।