মিশরে আবারও চাঙ্গা হচ্ছে সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলন

যেন ফিরে এসেছে সেই ২০১১ সাল; যখন স্বৈরশাসক হোসনি মুবারকের পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছিল সমগ্র মিসর। শুক্রবার (১৫ এপ্রিল) মিশরের রাজধানী কায়রোর গিজা এলাকায় আবারও একই ধরনের স্লোগান ওঠে। এবার হোসনি মুবারকের জায়গায় আল-সিসি শাসনের পতনের ডাক দিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা। সিসিকে তারা ব্যাঙ্গ করে বলছেন 'সিসি মুবারক'।  
বিক্ষোভকালে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে মিশরের নিরাপত্তাবাহিনীর সংঘর্ষও হয়েছে। ব্যাপক ধরপাকড়ও করা হয়েছে। তা সত্ত্বেও ২৫ এপ্রিল আবারও বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়েছে।

আবারও আন্দোলনে মিশরীয়রা

মিশরের দুটি কৌশলগত দ্বীপ সৌদি আরবের হাতে তুলে দেওয়ার ঘোষণায় আব্দেল ফাত্তাহ আল-সিসির পদত্যাগ দাবিতে শুক্রবার ব্যাপক বিক্ষোভ করে মিশরের জনগণ। ২০১৪ সালে আল-সিসি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে এটিই ছিল সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ।

আরও পড়ুন: বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশের মানবাধিকার রক্ষার বড় সমস্যা: যুক্তরাষ্ট্র

বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে। সে সময় কায়রো এবং আলেকজান্দ্রিয়া শহরে নিরাপত্তাবাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ হয়। আটক করা হয় শতাধিক বিক্ষোভকারীকে।

 

বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষে মিশরের নিরাপত্তাবাহিনী

গত সপ্তাহে সৌদি বাদশাহ সালমানের মিশর সফরকালে মিশরের প্রেসিডেন্ট তার নির্বাহী ক্ষমতাবলে সৌদি আরবকে লোহিত সাগরে মিশরের নিয়ন্ত্রণে থাকা দুটি দ্বীপ সৌদি আরবকে উপহার হিসেবে প্রদানের ঘোষণা দেন। ১৯৫০ সাল থেকে দ্বীপ দুটি মিশরের দখলে ছিল। মিশরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তিরান ও সানাফারি দ্বীপ দুটি সৌদি জলসীমায় অবস্থিত হওয়ার কারণেই এগুলো হস্তান্তর করা হচ্ছে। কায়রোতে সিসির পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভরতরা তাই শ্লোগান তোলেন ‘আমরা সিসি মুবারক চাই না, ক্ষমতা ছাড়ো’, ‘আমরাই আমাদের জমির মালিক’ বলে শ্লোগান দেয়। তবে মোহাম্মদ হুসেইন নামে এক প্রকৌশলী ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম রয়টার্সকে বলেছেন, ‘আমি বিক্ষোভ মিছিলে এসেছি মিশরের পুরো পরিস্থিতির কারণে, কেবল দ্বীপের কারণে নয়।’ বিক্ষোভে শামিল তরুণরা বলেন, ‘বিপ্লবী তরুণরা হারিয়ে যায়নি।’

আরও পড়ুন: কামিজ পরে মন্দিরে প্রবেশ করায় আক্রমণ

বিক্ষোভকারীরা জানান, দুর্নীতি, দারিদ্র্য আর বেকারত্বে প্রতিনিয়ত বিক্ষুব্ধ মিশরীয়রা এবার আবারও আন্দোলনে শামিল হলো। সিসিকে তারা হোসনি মুবারক থেকে বেশি স্বৈরাচারী শাসক বলে উল্লেখ করেছেন।

বিক্ষোভকারীরা প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির পদত্যাগ দাবি করেন

আরও পড়ুন: বাংলাদেশে ‘আইএস-এর পরিচালনাকারী’ আবু ইব্রাহিম-এর সাক্ষাৎকার

হোসনি মুবারকের পতনের পর মিসরের ইতিহাসের প্রথম গণতান্ত্রিক নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় আসে মুসলিম ব্রাদারহুড। কিন্তু জনগণের দাবি পূরণে তারাও সফল হয়নি, এমন দাবিতে সরকার-বিরোধী আন্দোলন শুরু হলে তা সেনাবাহিনীর সমর্থন পায়। ২০১৩ সালে পশ্চিমা শক্তির পরোক্ষ অনুমোদনে তৎকালীন মুসলিম ব্রাদারহুড সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে মিশরের সেনাবাহিনী পুনরায় ক্ষমতাসীন হয়। ২০১৪ সালে এক বিতর্কিত নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সেনাপ্রধান ফাত্তাহ আল-সিসি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। সূত্র: আলজাজিরা।

/এসএ/বিএ/