নেপালে ভয়াবহ বন্যার পর বিভিন্ন জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের সুড়ঙ্গে আটকা পড়া কর্মীদের উদ্ধারে জোর তৎপরতা চলছে। কাদা, পাথর ও ধ্বংসাবশেষে সুড়ঙ্গের প্রবেশপথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় উদ্ধারকাজ কঠিন হয়ে পড়েছে। আটকা কর্মীদের কাছে পৌঁছাতে কোথাও কোথাও নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পথ তৈরির চেষ্টা করছেন উদ্ধারকারীরা।
দেশটির রাসুয়া ও নুওয়াকোট জেলার একাধিক জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে বিপুলসংখ্যক কর্মী আটকা বা নিখোঁজ রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কর্মকর্তাদের হিসাবে, ১১টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে ৯৩৩ জন কর্মী আটকা পড়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাদের মধ্যে অনেকে বিভিন্ন সুড়ঙ্গে অবস্থান করছিলেন।
নেপালের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, উদ্ধারকারীরা ভারী যন্ত্রপাতি, সার্চলাইট ও নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণ ব্যবহার করে সুড়ঙ্গের ভেতরে যাওয়ার পথ পরিষ্কার করছেন। ইতোমধ্যে কয়েকটি সুড়ঙ্গে প্রবেশ করে মরদেহও উদ্ধার করা হয়েছে। তবে ধ্বংসাবশেষে এখনো বেশ কিছু অংশ পুরোপুরি আটকে থাকায় উদ্ধারকাজ অব্যাহত রয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আপার ত্রিশুলি-৩এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে ৪২ জন কর্মী নিখোঁজ বলে ধারণা করা হচ্ছে। সেখানে সেনাবাহিনীর প্রকৌশলীরা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে সুড়ঙ্গের পথ পরিষ্কারের কাজ করছেন। আপার ত্রিশুলি-৩বি প্রকল্পেও ১২২ জন নিখোঁজ বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
অপরদিকে, আপার ত্রিশুলি-১ প্রকল্পের আশপাশ থেকে ইতোমধ্যে ২৫০ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে ওই প্রকল্পেও বহু মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। বিভিন্ন প্রকল্পে আটকা ও নিখোঁজ কর্মীদের স্বজনদের মধ্যে উৎকণ্ঠা বাড়ছে।
উদ্ধারকারীদের জন্য সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে কাদা ও পাথরের স্তূপ। বন্যার পানির সঙ্গে বিপুল পরিমাণ মাটি ও ধ্বংসাবশেষ সুড়ঙ্গের ভেতরে ঢুকে পড়ায় সেখানে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে। কোথাও কোথাও সুড়ঙ্গে বাতাস পৌঁছানোর জন্য পাইপ বসানোর চেষ্টাও করা হচ্ছে।
নেপালের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, সুড়ঙ্গের পথ খুলে আটকা পড়া মানুষদের কাছে পৌঁছানোই এখন তাদের প্রধান লক্ষ্য। প্রতিকূল আবহাওয়া ও দুর্গম পাহাড়ি পরিবেশের মধ্যেও উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন সেনাসদস্য ও বিশেষজ্ঞ দলগুলো।
নেপাল-চীন সীমান্ত এলাকায় ভয়াবহ বন্যার পর দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক প্রাণহানি ও নিখোঁজের ঘটনা ঘটেছে। জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোতে আটকা কর্মীদের উদ্ধারে নেপালের সঙ্গে চীন ও ভারত থেকেও বিশেষজ্ঞ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
এখনও যেসব কর্মীর কোনও সন্ধান পাওয়া যায়নি, তাদের স্বজনেরা অপেক্ষা করছেন প্রিয়জনের ফেরার খবরের জন্য। আর দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় উদ্ধারকারীরা চালিয়ে যাচ্ছেন সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এই অভিযান।