হিমালয় কন্যা নেপালে প্রলয়ঙ্করী বন্যার পর বিভিন্ন জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের সুড়ঙ্গে আটকে পড়া প্রায় ৯০০ শ্রমিককে উদ্ধারে সোমবার ষষ্ঠ দিনের মতো জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন উদ্ধারকারীরা। কাদা ও পলি দিয়ে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়া সুড়ঙ্গগুলো থেকে ইতোমধ্যে তিনটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
নিখোঁজদের কারও সঙ্গে এখনও সরাসরি যোগাযোগ করা সম্ভব না হলেও নেপাল সরকারের ধারণা, সুড়ঙ্গের ভেতরে ১০০ জনেরও বেশি শ্রমিক জীবিত থাকতে পারেন। জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের তথ্য মতে, গত বুধবার সকালে বিশাল পাহাড়ি ঢল ও ধ্বংসাবশেষ নেমে আসার পর থেকে বিভিন্ন জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের অন্তত ৯৩৩ জন শ্রমিক নিখোঁজ রয়েছেন।
আপার ত্রিশূলি-৩ এ প্রকল্পে উদ্ধারকারীরা কাদায় পূর্ণ সুড়ঙ্গের ওপরের অংশে পৌঁছে ভেতরে বাতাস সরবরাহ করছেন এবং ভারী ড্রিলিং ও খননযন্ত্র দিয়ে নিচের দিকে খোঁড়াখুঁড়ি চালাচ্ছেন। নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ এক বিবৃতিতে জানান, উদ্ধারকারীরা দড়ি বেয়ে নিচে নেমে ভেতরে থাকা শ্রমিকদের ডাকলেও কোনও সাড়া পাওয়া যায়নি।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় নেপাল সেনাবাহিনীর সঙ্গে ভারত, চীন ও দক্ষিণ কোরিয়ার বিশেষায়িত সুড়ঙ্গ উদ্ধারকারী দল এবং নেপালের বিশেষজ্ঞ পর্বতারোহী উদ্ধারকারীরা যোগ দিয়েছেন। চীন উদ্ধারকারী দল ‘আপার ত্রিশূলি-১’ প্রকল্পের প্রায় ৩০০ মিটার ভেতরে ঢুকে একটি মরদেহ উদ্ধার করে। অন্যদিকে ‘চিলিমে’ জলবিদ্যুৎকেন্দ্রে ভারতীয় দল ১০০ মিটার ভেতরে প্রবেশ করার পর দেখতে পায় সামনের পথ ধসে পড়া মাটিতে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে আছে। সেখান থেকেও দুটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর মুখপাত্র নেত্র বাহাদুর কার্কি জানান, সড়ক ও সেতু ধ্বংস হলেও সড়কপথ ও হেলিকপ্টারে উদ্ধারকারীরা অধিকাংশ দুর্গম এলাকায় পৌঁছে গেছেন।
এদিকে নেপাল বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে ১১টি জলবিদ্যুৎকেন্দ্র ও একটি সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ হয়ে গেছে, যা দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনক্ষমতার প্রায় ১০ শতাংশ (৪৩১.১ মেগাওয়াট)। এ ছাড়া আরও ১৫টি নির্মাণাধীন প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সূত্র: এএফপি

দিল্লির খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ: বাদ পড়লেন ৪৭ লাখ ভোটার
ইস্তাম্বুলে ‘মক্কা চুক্তি’র প্রথম বৈঠকে বসছে তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরব







