ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) কর্তৃক দুটি মার্কিন রণতরীতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাবে পাল্টা বিধ্বংসী আক্রমণ চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। পারস্য উপসাগরের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ খাড়গ দ্বীপের কাছে এবং ওমান উপসাগরে ইরানের তিনটি তেল ট্যাংকার বিমান হামলা চালিয়ে অকেজো ও ধ্বংস করে দিয়েছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। খবর বিবিসি।
হামলার পর মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “হিসাব খুবই সহজ— ইরান যদি আমাদের জাহাজে গুলি চালায়, তবে আমরা তাদের তেল ট্যাংকার ধ্বংস এবং ডুবিয়ে দেবো।”
সেন্টকমের অভিযান ও হামলা পরিস্থিতি
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের একটি বিমানবাহী রণতরী ও গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার লক্ষ্য করে ইরান একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালালেও তা সফলভাবে ব্যর্থ করা হয়েছে। এতে কোনও মার্কিন সেনা হতাহত হয়নি।
এর পরই পাল্টা অভিযানে খাড়গ দ্বীপের কাছে অবস্থানরত ‘এমটি ডাউনি’ ও জাস্ক উপকূলের ‘এমটি স্টার্ক-১’ নামের দুটি তেল ট্যাংকার স্থায়ীভাবে অকেজো করে দেওয়া হয়। এছাড়া ওমান উপসাগরে অবস্থানরত ‘এমটি কাইলো’ নামের অপর একটি খালি ট্যাংকার সম্পূর্ণ ধ্বংস করা হয়। সেন্টকম কমান্ডার এডমিরাল ব্র্যাড কুপার সতর্ক করে বলেন, “আইআরজিসি-র প্রতি বার্তা পরিষ্কার— আপনারা আমাদের ২টি জাহাজে হামলা চালালে, আমরা ৩টি ট্যাংকার অকেজো করে দিয়ে তারচেয়েও বড় অর্থনৈতিক ক্ষতি নিশ্চিত করবো।”
ইরানের প্রতিক্রিয়া ও খাড়গ দ্বীপের প্রভাব
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আইআরআইবি জানিয়েছে, খাড়গ দ্বীপের কাছে তেল ট্যাংকারে হামলায় কোনও হতাহতের ঘটনা ঘটেনি এবং জাহাজের কুলিং সিস্টেমের সাহায্যে এক ঘণ্টার মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। অন্যদিকে ওমান উপসাগরে হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত বাকি দুটি ট্যাংকারের ক্রু সদস্যদের লাইফবোটের মাধ্যমে নিরাপদে উপকূলে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
খাড়গ দ্বীপটি ইরানের অর্থনীতি ও অপরিশোধিত তেল রফতানির মূল কেন্দ্রস্থল, যার মাধ্যমে দেশটির মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৯০ শতাংশ রফতানি করা হয়। খাড়গ দ্বীপের এত কাছে মার্কিন হামলার ঘটনা সংঘাতের মাত্রাকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে নিয়ে গেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিশ্ববাজারে তেল ও জ্বালানি সংকটের শঙ্কা
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যবর্তী ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ গত মাসে শেষ হওয়ার পর থেকেই নতুন করে সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করেছে। পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালিতে চরম উত্তেজনার ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের দাম হু-হু করে বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ইতোমধ্যেই ডিজেলের গড় দাম প্রতি গ্যালনে ৫ দশমিক ৮৫ ডলারে গিয়ে ঠেকেছে।
আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে জ্বালানির এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর রাজনৈতিক চাপ বাড়াচ্ছে।