বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালি সাত দিনের মধ্যে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য পুনরায় উন্মুক্ত করে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তবে এই পদক্ষেপ বাস্তবায়নে যুক্তরাষ্ট্রকে পূর্বনির্ধারিত শর্ত পূরণ করতে হবে বলে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন। খবর বিবিসি।
ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করা হলে আগামী সাত দিনের মধ্যে প্রণালীটি খুলে দিয়ে স্বাভাবিক নৌচলাচল পুনর্বহাল করা সম্ভব। সিদ্ধান্ত এখন পুরোপুরি যুক্তরাষ্ট্রের হাতে।”
আব্বাস আরাগচি জানান, নতুন কোনও দাবি নয়; বরং গত ১৮ জুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ১৪ দফার সমঝোতা স্মারকে যে বিষয়গুলো ছিল, ওয়াশিংটনকে ঠিক সেগুলোই বাস্তবায়ন করতে হবে।
উল্লেখ্য, ওই চুক্তিতে পরমাণু অস্ত্র তৈরি না করার অঙ্গীকার, সামরিক হামলা বন্ধ, মার্কিন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা এবং হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচলের রূপরেখা অন্তর্ভুক্ত ছিল। কিন্তু এর কিছুদিন পরেই দুই পক্ষের মধ্যে পুনরায় হামলা শুরু হলে চুক্তিটি ভেস্তে যায়।
চলতি সপ্তাহে ট্রাম্প জাতিসংঘে দেওয়া ভাষণে ইরানকে ‘সম্পূর্ণ ধুলিস্যাৎ’ করার হুমকি দেওয়ার পর ইরানের এই কূটনৈতিক পদক্ষেপ এলো। আরাগচির প্রস্তাবের বিষয়ে রয়টার্সকে এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে পারমাণবিক বিষয়সহ বিভিন্ন দিক নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা চলছে। নভেম্বরে মার্কিন কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে বৈশ্বিক তেলের বাজারের অস্থিরতা কমানো এবং যুদ্ধ সমাপ্তির পথ খোঁজা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ওপর রাজনৈতিক চাপ বাড়াচ্ছে।
আরাগচি ট্রাম্পের হুমকির জবাবে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ইরান কোনও ভয়ভীতি বা হুমকি বরদাস্ত করে না। আর ধূলিস্যাৎ করে দেওয়ার হুমকি দিয়ে কখনও শান্তি প্রতিষ্ঠা হতে পারে না।”
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল সরবরাহকারী পথ হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ করে রাখে ইরান। এর ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট ও দাম বৃদ্ধি দেখা দেয়। এখন মার্কিন প্রশাসন ইরানের এই শর্তযুক্ত প্রস্তাব গ্রহণ করবে কিনা, তার ওপর নির্ভর করছে লোহিত সাগর ও পারস্য উপসাগরের ভবিষ্যতের তেল সরবরাহ।