ফিলিস্তিনি হত্যায় অভিযুক্ত ইসরায়েলি সেনার সাময়িক মুক্তি

পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সময় কাটাতে ফিলিস্তিনি নাগরিককে হত্যার দায়ে অভিযুক্ত এক ইসরায়েলি সেনাকে  দুইদিনের সাময়িক মুক্তি দেওয়া হয়েছে।

সার্জেন্ট ইলোর আজারিয়া(১৯)কে একটি ভিডিওতে খুব কাছ থেকে মাথায় গুলি করে এক ফিলিস্তিনিকে হত্যা করতে দেখা যায়। ইসরায়েলের দাবি মতে,নিহত আব্দেল ফাত্তাহ আল-শরিফ একটি ছুরি হাতে সেনাদের ওপর হামলা চালান।

আব্দেল ফাত্তাহকে ছুরি হাতে আক্রমণ করতে দেখা না গেলেও, তিনি যে আজারিয়ার গুলিতে নিহত হয়েছেন তা ভিডিও থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়।

ফিলিস্তিনি হত্যার দায়ে অভিযুক্ত ইসরায়েলি সেনা ইলোর আজারিয়া

গ্রেফতার করার পর আজারিয়াকে ঘাঁটির মধ্যেই একটি বন্দিশালায় রাখা হয়। সেনা আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী ফিরে আসার পরও, মামলা শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত তাকে সেখানেই রাখা হবে।

বাড়ির বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় আজারিয়ার বাবা চার্লি তার পুত্রকে বাড়িতে ছুটি কাটানোর অনুমতি দেওয়ায় বিচারকদের ধন্যবাদ জানান।

তিনি বলেন, ‘ঈশ্বরের কৃপা থাকলে সবকিছু ভালোয় ভালোয় শেষ হবে আর আমরাও স্বাভাবিক একটি পরিবার হিসেবে জীবনযাপন করতে পারবো। আমরা আমাদের দেশকে ভালোবাসি। আমরা ইসরায়েল রাষ্ট্রের শত্রু নই।’

ইসরায়েল সেনাবাহিনী ইতোমধ্যে নরহত্যা ও সেনাবিধির লঙ্ঘনের দায়ে আজারিয়ার বিরুদ্ধে চার্জশিট তৈরি করেছে। তার চার্জশিটে লেখা হয়েছে, ‘সন্ত্রাসী ... মাটিতে পড়ে ছিলেন, তিনি তখনও জীবিত, এবং আশেপাশের মানুষ ও সেনাদের জন্য কোন রকম হুমকির কারণ ছিলেন না।’

আজারিয়া নিজের হেলমেট পাশের এক সেনার হাতে দিয়ে, কয়েক পা এগিয়ে গিয়ে রাইফেল তাক করে ওই ফিলিস্তিনির মাথা বরাবর গুলি করেন, এতেই প্রাণ হারান আব্দেল ফাত্তাহ আল-শরিফ।

চার্জশিটে আরও লেখা হয়, আজারিয়ার এই কর্মকাণ্ডের কোন ‘যৌক্তিকতা’ ছিল না।

আজারিয়ার পক্ষ থেকে বলা হয়, তিনি ভীত ছিলেন যে ওই ফিলিস্তিনির কাছে বোমা থেকে থাকতে পারে।

আরও পড়ুনঃ ফিলিস্তিনি কিশোর হত্যার দায়ে এক ইসরায়েলি দোষী সাব্যস্ত

এদিকে, আরেক ফিলিস্তিনির তোলা ওই ভিডিও ফুটেজ দেখিয়ে একটি জনমত জরিপ করা হয় ইসরায়েলে। সেই জরিপে ৫৭ শতাংশ ইসরায়েলি জানান, তারা মনে করেন আজারিয়াকে গ্রেফতার করার সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল না।

তবে নরহত্যার অভিযোগ প্রমাণিত হলে আজারিয়াকে ২০ বছরের জন্য কারাভোগ করতে হবে। সূত্রঃ ইন্ডিপেন্ডেন্ট

/ইউআর/বিএ/