২৬ এপ্রিল ইউরোপীয় ইউনিয়নের ওয়েবসাইটে এ বিষয়ে একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। এতে বলা হয়, ‘আমরা ঘটনার শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করছি। আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি। এসব ঘটনার সঙ্গে দায়ী ব্যক্তিদের বিচার নিশ্চিত করতে এর তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে।’
আরও পড়ুন: হত্যাকারীদের ধরতে সহায়তা করেনি পথচারীরা
বিবৃতিতে বলা হয়, ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রত্যাশা বাংলাদেশ সরকার একটি মৌলিক অধিকার হিসেবে মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করবে। সব নাগরিকের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিতের জন্য এর প্রয়োজন রয়েছে।
আরও পড়ুন: ‘অপ্রস্তুত’ পাঁচ পুলিশের সামনে পাঁচ ‘পোলাপান’ খুনি!
এদিকে ঢাকায় ইউএসএআইডি’র কর্মী জুলহাজ মান্নান হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়েছে ঢাকাস্থ জার্মান দূতাবাস। এ বিষয়ে দূতাবাসের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে একটি বিবৃতি দেওয়া হয়েছে। বিবৃতিতে ঢাকায় নিযুক্ত জার্মানির রাষ্ট্রদূত থমাস প্রিঞ্জ বলেন, ‘মাহবুব তনয় ও জুলহাজ মান্নানের লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডে আমি গভীরভাবে মনঃক্ষুণ্ণ ও মর্মাহত। এ দুই স্পষ্টভাষী উদারমনা অধিকারকর্মীর হত্যার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। এটা শুধু দুই সাহসী ব্যক্তির ওপরই হামলা নয়, বরং এটা এদেশে বাকস্বাধীনতার ওপর হামলা। এ ঘটনার দ্রুত ও যথাযথ তদন্তে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। বিগত মাসগুলোতেও আমরা এ ধরনের বহু ঘটনা ঘটতে দেখেছি। এখন সময় এসেছে পুরো সমাজকে একসঙ্গে এর বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে মত প্রকাশের স্বাধীনতার মৌলিক অধিকারকে রক্ষা করার।'
আরও পড়ুন: দেশের একমাত্র গে ম্যাগাজিন ‘রূপবান’ কাহিনী
২৫ এপ্রিল সোমবার বিকালে কলাবাগানের লেক সার্কাস এলাকায় পার্সেল দেওয়ার কথা বলে বাসায় ঢুকে কুপিয়ে খুন করা হয় ইউএসএআইডির কর্মসূচি কর্মকর্তা জুলহাজ (৩৫) ও তার বন্ধু নাট্যকর্মী মাহবুব রাব্বী তনয়কে (২৬)। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের সাবেক প্রটোকল অ্যাসিসটেন্ট জুলহাজ সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনির খালাতো ভাই। তিনি সমকামীদের অধিকার পক্ষের সাময়িকী ‘রূপবান’ সম্পাদনায় যুক্ত ছিলেন। এখন পর্যন্ত কেউ এ জোড়া খুনের দায় স্বীকার না করলেও সাম্প্রতিক মাসগুলোতে আইএসের নামে এ ধরনের অধিকাংশ ঘটনার দায় স্বীকারের ঘটনা ঘটেছে। তবে নির্ভরযোগ্য কোনও সূত্র থেকে সেটা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
/এমপি/