সুদানের রাজধানী খার্তুমে ব্যাপক গোলাগুলি, বিস্ফোরণ

উত্তর আফ্রিকার দেশ সুদানে গত কয়েকদিন ধরে দেশটির সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক বাহিনীর মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছিল। এর মধ্যেই শনিবার (১৫ এপ্রিল) রাজধানী খার্তুমের দক্ষিণে ব্যাপক ভারী গোলাগুলির খবর পাওয়া গেছে। দুই বাহিনীর মধ্যে গত কয়েকদিন ধরে যে উত্তেজনা চলছিল, তা বৃহস্পতিবার থেকে প্রকাশ্যে আসতে থাকে। ধারণা করা হচ্ছে, সেনা ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্যদের মধ্যেই এ সংঘাত শুরু হয়েছে।

এদিন সুদানের সেনা সদর দফতর এবং খার্তুমের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের আশেপাশে গুলি ও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় জানা গেছে, দক্ষিণ খার্তুমে আধাসামরিক র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সের (আরএসএফ) একটি ঘাঁটিতে সংঘর্ষ, বিস্ফোরণ এবং বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটেছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার টেলিভিশনে সরাসরি দেখা গেছে, খার্তুমে সামরিক বাহিনীর গাড়ি ছুটতে দেখা গেছে। কয়েক জায়গায় থেকে কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী পাকিয়ে চারদিকে ছড়াচ্ছে। আতঙ্কে ছোটাছুটি করতে দেখা গেছে মানুষকে জনকে। প্রধান সড়কগুলো অনেকটাই জনশূন্য হয়ে পড়েছে।

এখন পর্যন্ত কোনও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

গোলাগুলি ও বিস্ফোরণের ঘটনায় সেনাবাহিনীকে দায়ী করেছে আধাসামরিক বাহিনী আরএসএফ। এক বিবৃতিতে তারা বলেছে, ‘শনিবার সেনাবাহিনীর একটি বড় দল খার্তুমের সোবায় ক্যাম্পে প্রবেশ করে ও সেখানে আধাসামরিক বাহিনীর সদস্যদেরকে অবরোধ করে। এ ঘটনায় বিস্মিত র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্স।’

এর মধ্যে খার্তুম বিমানবন্দর দখলের দাবি করেছে আরএসএফের সদস্যরা।  সুদানের আধাসামরিক বাহিনীটির দাবি, তারা খার্তুম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে।

সশস্ত্র দলটি কেবল বিমানবন্দরের নিয়ন্ত্রণই নিতে সক্ষম হয়নি, দেশের উত্তরে মেরোওয়ে সামরিক ঘাঁটিও দখলে নিয়েছে। যদিও আরএসএফের দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি আল জাজিরা।

সেনাবাহিনী ও আরএসএফ উভয়বাহিনীর প্রধানরা নিজেদের মধ্যে বিবাদ কমিয়ে আনতে প্রস্তুত বলে শুক্রবার এবং শনিবার দিনের শুরুর দিকে মধ্যস্তাকারীদের জানিয়েছিলেন। এর মধ্যেই রাজধানীতে সংঘর্ষের খবর আসলো। সূত্র: আল জাজিরা, বিবিসি