সুদানের রাজধানী খার্তুম থেকে দূতাবাস সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তুরস্ক। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত কাভুসোগলু এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেছেন, তুর্কি রাষ্ট্রদূতের গাড়ি আক্রান্ত হওয়ার জেরে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কাভুসোগলু শনিবার দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর আন্টালিয়ায় সাংবাদিকদের বলেন, ‘অন্তবর্তীকালীন সরকার এবং সুদানের সেনাবাহিনীর সুপারিশে আমাদের দূতাবাস সাময়িকভাবে পোর্ট সুদানে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছি’।
তুর্কি কূটনৈতিকের উদ্ধৃতি দিয়ে আনাদোলু এজেন্সি বলছে, রাষ্ট্রদূতের গাড়িতে হামলার ঘটনায় হতাহতের কোনও খবর পাওয়া যায়নি। রাষ্ট্রদূত ইসমাইল কোবানোগ্লুর গাড়িতে যে বন্দুকের গুলি লেগেছিল, তার উৎসও স্পষ্ট নয়।
সুদানের যুদ্ধরত পক্ষগুলো রাষ্ট্রদূতের গাড়িতে হামলার জন্য একে অপরকে দায়ী করেছে।
১৫ এপ্রিল সুদানের সেনাপ্রধান আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহান এবং আধা সামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ) কমান্ডার মোহাম্মদ হামদান এর মধ্যে ক্ষমতার লড়াই শুরু হয়। সংঘর্ষে শত শত মানুষ নিহত হয়েছেন, আহত হন হাজার হাজার মানুষ।
২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে জেনারেলদের একটি কাউন্সিল সুদান পরিচালনা করছে। মূলত কাউন্সিলের শীর্ষ দুই সামরিক নেতা জেনারেল আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহান এবং জেনারেল মোহামেদ হামদান দাগালোর মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। জেনারেল আল-বুরহান সুদানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান। সে কারণে তিনিই দেশটির প্রেসিডেন্ট। অন্যদিকে দেশটির উপ-নেতা জেনারেল মোহামেদ হামদান দাগালো আধা-সামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস বা আরএসএফের কমান্ডার।
কিছুদিন আগেও তাদের মধ্যে দারুণ বন্ধুত্ব ছিল। সুদানের প্রেসিডেন্ট ওমর আল-বশিরকে ২০১৯ সালে ক্ষমতা থেকে সরাতে তারা দুজন এক হয়ে কাজ করেছেন। ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানেও তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। সামনের দিনগুলোয় কীভাবে দেশ পরিচালিত হবে তা নিয়েই এই দুই নেতার মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। সুদানের ভবিষ্যৎ এবং দেশটির বেসামরিক শাসনে ফিরে যাওয়ার প্রস্তাবনা নিয়ে তারা ভিন্নমত পোষন করেন।
সূত্র: আল জাজিরা