দ. আফ্রিকায় ৯ নারী হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ

দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে শনিবার দৌড় ও মোমবাতি প্রজ্বালনের মাধ্যমে নিহত নারীদের স্মরণ করেছেন দেশটির নাগরিকরা। নিহতদের একজন এলিজাবেথ মোসেলাকগোমোর স্মরণে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা যথেষ্ট হয়েছে, নারী হত্যাকাণ্ড বন্ধ করুন লেখা ব্যানার বহন করেন। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

দৌড়াতে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয়েছিলেন এলিজাবেথ। কয়েক দিন পর তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। কালো পোশাক পরে স্মরণ দৌড়ে অংশ নেওয়া লেরাতো লেন্তসেলা বলেন, আমরা একজন দৌড়বিদকে হারিয়েছি। কিন্তু আমরা কোথাও নিরাপদ নই।

তিনি বলেন, দৌড়াতে গিয়ে, পোস্ট অফিসে, কারও সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে, এমনকি নিজের বাড়ি কিংবা উবারেও নারীরা নিরাপদ নন। দক্ষিণ আফ্রিকায় নয় নারী হত্যার ঘটনায় দেশজুড়ে নতুন করে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। ২০২৫ সালে দেশটিতে নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতাকে জাতীয় দুর্যোগ ঘোষণা করা হলেও, সরকারি নানা প্রতিশ্রুতি ও বাড়তি নজরদারির পরও নিরাপত্তা নিয়ে নারীদের উদ্বেগ কমেনি।

নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা প্রতিরোধে কাজ করা ইউইনেনে ম্রেতিয়ানা ফাউন্ডেশন বলেছে, যথেষ্ট হয়েছে। আমাদের নারীদের ভয় ছাড়া বাঁচা, হাঁটা, দৌড়ানো ও স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করার অধিকার রয়েছে।

দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা বলেছেন, এমন সহিংসতার সঙ্গে দেশ অভ্যস্ত হয়ে যেতে পারে না। এসব হত্যাকাণ্ডের তদন্তে কোনও ধরনের কমতি রাখা হবে না বলেও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। তবে দুর্নীতি ও সম্পদের ঘাটতির কারণে দেশটির পুলিশব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়েছে। দেশটিতে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের মাত্র প্রায় ১০ শতাংশের সমাধান হয় বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

নারীদের সংগঠন উইমেন ফর চেঞ্জের মেরলিজ জোগিয়াত বলেন, পুলিশি ব্যবস্থাকে নতুন করে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। অতিরিক্ত পুলিশি উপস্থিতির কারণেই নয় নারীকে খুঁজে পাওয়া সম্ভব হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

এদিকে একা হাঁটা বা ব্যায়াম করার সময় নারীদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের পুলিশি পরামর্শেরও সমালোচনা করেছেন অনেকে। উইমেন ফর চেঞ্জ বলেছে, নারীদের নিরাপত্তার দায়িত্ব তাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া বন্ধ করতে হবে।