আটক ৩৭ খনিশ্রমিকের মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে তদন্তে যা জানা গেলো

নাইজেরিয়ায় আটক অবস্থায় অবৈধ খনির সন্দেহে ধরা ৩৭ জনের মৃত্যু হয়েছে মারাত্মক ঠাসাঠাসি, দুর্বল বায়ু চলাচল ও অবহেলার কারণে। তাদের মৃত্যুর বিষয়ে সরকারের তদন্তে এ তথ্য উঠে এসেছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

গত মাসে এ মৃত্যুর ঘটনায় নাইজেরিয়ায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়লে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি কর্মকর্তাদের আগের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে, যেখানে রোগের প্রাদুর্ভাবকে দায়ী করা হয়েছিল। একই সঙ্গে ভুক্তভোগী ও বেঁচে যাওয়াদের ক্ষতিপূরণ এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার আমূল সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছে তারা।

মৃতদের মধ্যে ছিলেন অনেক কিশোর, যারা কারিগরি পদ্ধতির স্বর্ণখনিতে কাজ করতেন। এ ঘটনা নাইজেরিয়ায় বিক্ষোভের জন্ম দিয়েছে এবং হাজতখানার পরিস্থিতি ও বিচারের অপেক্ষায় থাকা সন্দেহভাজনদের সঙ্গে আচরণ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

কমিটির চেয়ারম্যান জনাথন কুরে বলেন, মৃত্যুগুলো ছিল সম্পূর্ণ প্রতিরোধযোগ্য। মারাত্মক ঠাসাঠাসি, মৌলিক প্রয়োজনীয় জিনিসের অভাব এবং সতর্কবার্তা উপেক্ষার ফলেই এগুলো ঘটেছে বলে তিনি জানান।

আটকের নথি, ময়নাতদন্ত, হাসপাতালের প্রতিবেদন ও যোগাযোগের লগসহ প্রমাণ পর্যালোচনার পর কুরে বলেন, এ ট্র্যাজেডি আটক রাখার মান, তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব এবং হেফাজতে থাকা ব্যক্তিদের কল্যাণের প্রতি পদ্ধতিগত অবহেলার পরিণতি তুলে ধরে।

কুরে জানান, প্রমাণে দেখা গেছে, ভুক্তভোগীরা মারা গেছেন অ্যাসফিক্সিয়ায় অর্থাৎ তীব্র শ্বাসযন্ত্রের বিকলতায়। অতি ঠাসাঠাসি ও দুর্বল বায়ু চলাচলের একটি সেলে দীর্ঘক্ষণ আটকে রাখায় এটি ঘটেছে। তাপজনিত চাপ ও পানিশূন্যতা পরিস্থিতি আরও খারাপ করেছে। তিনি বলেন, রোগের প্রাদুর্ভাবে মৃত্যু হয়েছে, এমন দাবির পক্ষে প্রমাণ মেলেনি।

খনি নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে খনিশ্রমিকদের আটক করে রাখে আধাসামরিক সংস্থা নাইজেরিয়া সিকিউরিটি অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স কর্পস (এনএসসিডিসি)। সংস্থাটি প্রথমে ইঙ্গিত দেয়, অনির্দিষ্ট কোনও রোগে আটক ব্যক্তিরা মারা যেতে পারেন। পরে তারা জানায়, মৃত্যুর কারণ নির্ধারিত হয়নি। মন্তব্যের অনুরোধে এনএসসিডিসির কর্মকর্তারা তাৎক্ষণিক সাড়া দেননি।

কমিটি প্রতিটি নিহতের পরিবারকে ৩ কোটি নাইরা (প্রায় ২২ হাজার ৫০০ ডলার) এবং বেঁচে যাওয়া ৪১ জনের প্রত্যেককে ১ কোটি নাইরা ক্ষতিপূরণের সুপারিশ করেছে। এ পর্যবেক্ষণ বেঁচে যাওয়াদের সাক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তারা রয়টার্সকে বলেছিলেন, কারিগরি পদ্ধতির কয়েক ডজন খনিশ্রমিককে একটি ছোট হাজতকক্ষে গাদাগাদি করে রাখা হয়েছিল। ঠাসাঠাসি নিয়ে অভিযোগ করার পরও বারবার তাদের কথা উপেক্ষা করা হয়।

তদন্ত চলাকালে এনএসসিডিসির জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সাময়িক বরখাস্ত করেছে সরকার। তবে সংস্থাটির নেতৃত্বে ব্যাপক রদবদলের আহ্বান জানিয়েছে কমিটি।