নতুন প্রজন্মের হাতে নেতৃত্বের মশাল তুলে দেওয়াই ঐক্যের পথ: বাইডেন

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের লড়াই থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত ব্যাখ্যা করেছেন। বুধবার (২৪ জুলাই) ওভাল অফিস থেকে দেওয়া এক ভাষণে তিনি বলেছেন, জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করার সেরা উপায় হলো নতুন প্রজন্মের হাতে নেতৃত্ব তুলে দেওয়া। তুরস্কের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি এ খবর জানিয়েছে।

ডেমোক্র্যাট নেতাদের ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে নির্বাচনি প্রচারণা থেকে সরে দাঁড়ানো বাইডেন বলেছেন, আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি, এগিয়ে যাওয়ার সেরা উপায় হলো নতুন প্রজন্মকে মশালটি হস্তান্তর করা। এটিই আমাদের জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করার সেরা উপায়।

আগামী নভেম্বরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রার্থিতা থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেওয়ার পর এটাই জো বাইডেনের দেশবাসীর উদ্দেশ্যে দেওয়া প্রথম ভাষণ।

তিনি ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসকে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে সমর্থন করেছেন। বাইডেন বলেছেন, আমার দলকে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রয়াসে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। আমি হোয়াইট হাউজকে শ্রদ্ধা করি, কিন্তু আমার দেশকে আরও বেশি ভালোবাসি।

তিনি বলেছেন, আপনাদের প্রেসিডেন্ট হিসেবে কাজ করা আমার জীবনের সর্বোচ্চ সম্মান। কিন্তু ঝুঁকির মধ্যে থাকা গণতন্ত্র রক্ষায় আমি মনে করি এটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

বাইডেন হ্যারিসের প্রশংসা করে বলেছেন, আমি আমাদের ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। তিনি অভিজ্ঞ, কঠোর এবং সক্ষম। তিনি আমার অবিশ্বাস্য অংশীদার। আমাদের দেশের একজন মহান নেতা।

বাইডেন বলেন, আগামী কয়েক মাস তিনি প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার কাজে মনোনিবেশ করবেন। এর মধ্যে থাকবে জীবনযাপনের ব্যয় কমানো, অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি, স্বাধীনতা রক্ষা, বিদ্বেষ ও চরমপন্থা মোকাবিলা এবং আগ্নেয়াস্ত্র থেকে শিশুদের রক্ষা করা।

তিনি আরও বলেছেন, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে ইউক্রেন দখল থেকে বিরত রাখতে ও ন্যাটোকে শক্তিশালী রাখতে এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় মিত্রদের ঐক্যবদ্ধ রাখতে জোটের উদ্যোগ চালিয়ে যাবেন।

বাইডেন উল্লেখ করেছেন, যখন তিনি ২০২০ সালে হোয়াইট হাউজে যোগদান করেছিলেন, তখন প্রচলিত ধারণা ছিল যে চীন যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে যাবে। কিন্তু এখন তা আর সত্য নয়।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছেন, গাজায় যুদ্ধ শেষ করতে কাজ করবেন। তিনি বলেন, আমি গাজার যুদ্ধ শেষ করতে, সব জিম্মিদের ফিরিয়ে আনতে এবং মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও নিরাপত্তা আনতে এবং এই যুদ্ধ শেষ করতে কাজ চালিয়ে যাব।

গত বৃহস্পতিবার রিপাবলিকান পার্টির জাতীয় সম্মেলনের শেষ দিনে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে (৭৮) আনুষ্ঠানিকভাবে দলটির প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ঘোষণা করা হয়। এর তিন দিন পর রবিবার নির্বাচনি লড়াই থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দেন বাইডেন। সেই সঙ্গে ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলার প্রতি সমর্থন জানানোরও ঘোষণা দেন।

এদিকে বাইডেন সরে দাঁড়ানোর পর ডেমোক্র্যাটিক পার্টি থেকে প্রার্থিতার দৌড়ে সামনে চলে এসেছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস।

জনমত জরিপগুলোয় রিপাবলিকান প্রার্থী ট্রাম্পের চেয়ে তাকে এগিয়ে থাকতেও দেখা গেছে।