আফ্রিকার জন্য নিরাপত্তা পরিষদে ২ স্থায়ী আসন, চীনা প্রভাব মোকাবিলায় মার্কিন প্রচেষ্টা?

আফ্রিকার জন্য জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে দুটি স্থায়ী আসনে মার্কিন সমর্থন মূলত চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব মোকাবিলায় ওয়াশিংটনের প্রচেষ্টা। এমন অভিমত দিয়েছেন এক সাবেক আফ্রিকান কূটনীতিক। আফ্রিকার পাশাপাশি ক্ষুদ্র দ্বীপ উন্নয়নশীল রাষ্ট্রগুলোর জন্যও যুক্তরাষ্ট্র একটি ঘূর্ণায়মান আসনের প্রস্তাব করেছে।

জাতিসংঘের অন্যতম শক্তিশালী সংস্থা হিসেবে পরিচিত নিরাপত্তা পরিষদ আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষা, নিষেধাজ্ঞা আরোপ, অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা ও বলপ্রয়োগের ক্ষমতা রাখে। এর সিদ্ধান্তসমূহ জাতিসংঘের সব সদস্য রাষ্ট্রের জন্য বাধ্যতামূলক।

যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপটি চীনের বেইজিংয়ে সম্প্রতি আয়োজিত একটি বড় আকারের চীন-আফ্রিকা সম্মেলনের কয়েকদিন পর এসেছে, যেখানে জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসও উপস্থিত ছিলেন।

সাবেক ইরিত্রিয়ান রাষ্ট্রদূত আন্দেব্রহান ওয়েলডে গিয়োরগিস বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের আফ্রিকার প্রতিনিধিত্বে অবস্থান পরিবর্তনের প্রধান কারণ সম্ভবত আফ্রিকায় চীন ও রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান প্রভাব মোকাবিলা করার ইচ্ছা। চীন বর্তমানে আফ্রিকার সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক অংশীদার।

বেইজিংয়ে আয়োজিত চীন-আফ্রিকা সম্মেলনে ৫০টিরও বেশি আফ্রিকান দেশ অংশ নিয়েছে। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং আফ্রিকায় ৫০ বিলিয়ন ডলার আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এবং চীনের সঙ্গে আফ্রিকার জনগণকে একত্রিত করে একটি ‘প্রভাবশালী শক্তি’ গড়ে তোলার প্রতিজ্ঞা করেছেন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র আফ্রিকার সঙ্গে সম্পর্ক পুনরুদ্ধার করতে চায়, কারণ গাজার যুদ্ধে ইসরায়েলকে সমর্থন দেওয়ার কারণে অনেক আফ্রিকান দেশ ওয়াশিংটনের প্রতি অসন্তুষ্ট।

যুক্তরাষ্ট্রের জাতিসংঘ রাষ্ট্রদূত লিন্ডা থমাস-গ্রিনফিল্ড বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ সনদ সংশোধনের জন্য আলোচনা শুরুর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

জাতিসংঘের ১৯৩ সদস্যের মধ্যে ৫৪টি আফ্রিকান রাষ্ট্র। তবে সাবেক কূটনীতিক গিয়োরগিসের মতে, দুটি স্থায়ী আসনের জন্য ভেটো ক্ষমতা না থাকলে এটি আফ্রিকার জন্য তেমন কোনও বড় পরিবর্তন আনবে না। আফ্রিকার উচিত ভেটো ক্ষমতা নিশ্চিত করা, কারণ তা ছাড়া তাদের ভূমিকা হবে নামমাত্র।

আফ্রিকার সম্ভাব্য দুই স্থায়ী আসনের জন্য প্রার্থীদের মধ্যে নাইজেরিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, মিসর ও আলজেরিয়ার নাম উঠে এসেছে। তবে গিয়োরগিস বলেন, প্রয়োজন হলো জাতিসংঘ ও বিশেষ করে নিরাপত্তা পরিষদের গঠন এবং কার্যক্রমে একটি বিস্তৃত সংস্কার, যা হতে হবে বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড