লাতিন আমেরিকায় কেন যুদ্ধজাহাজ ও যুদ্ধবিমান পাঠালো যুক্তরাষ্ট্র?

লাতিন আমেরিকার মাদকচক্র মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলা উপকূলের কাছে সামরিক উপস্থিতি বাড়াচ্ছে। এর অংশ হিসেবে কারিবীয় সাগর ও প্রশান্ত মহাসাগরে পাঠানো হয়েছে যুদ্ধজাহাজ। পাশাপাশি পুয়ের্তো রিকোতে মোতায়েন হয়েছে ১০টি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান।

গত সপ্তাহে ভেনেজুয়েলা থেকে ছেড়ে যাওয়া একটি নৌকা ধ্বংস করার ঘটনা নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, সেখানে ১১ জন নিহত হয়েছে এবং নৌকাটি ট্রেন দে আরাগুয়া গ্যাং পরিচালনা করছিল। তিনি ভেনিজুয়েলাকে ‘খুবই খারাপ ভূমিকায় থাকা রাষ্ট্র’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

তবে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, স্থল অভিযান চালানোর কোনও পরিকল্পনা নেই। নৌবাহিনীর চিফ অ্যাডমিরাল ড্যারিল কডল বলেন, মাদকচক্রবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে দক্ষিণ আমেরিকার জলসীমায় যুক্তরাষ্ট্রের নৌবহর কাজ করবে। তিনি বিস্তারিত জানাননি। অনেক তথ্য গোপন রাখা হয়েছে।

মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন যে, বর্তমানে অঞ্চলে রয়েছে দুটি এজিস গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার রয়েছে। এগুলো হলো, ইউএসএস গ্রাভেলি ও ইউএসএস জেসন ডানহাম। প্রশান্ত মহাসাগরে রয়েছে ইউএসএস স্যাম্পসন ও ইউএসএস লেক এরি। এ ছাড়া প্রায় ৪ হাজার মেরিন ও নাবিক বহনকারী তিনটি উভচর আক্রমণ জাহাজও অবস্থান করছে।

ট্রাম্প প্রশাসন সম্প্রতি ভেনেজুয়েলার ট্রেন দে আরাগুয়া, এল সালভাদরের এমএস-১৩ ও মেক্সিকোর ছয়টি গোষ্ঠীকে বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করেছে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, এর মাধ্যমে ওয়াশিংটন ভেনিজুয়েলার বিরোধীদের খুশি রাখার চেষ্টা করছে এবং সরকারের ভেতর থেকে কর্মকর্তাদের ভয় দেখিয়ে ভিন্নমত তৈরির কৌশল নিচ্ছে।

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো অবশ্য মার্কিন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, তার দেশ কোকা গাছ ও কোকেন উৎপাদনমুক্ত। তিনি বলেন, শীতল যুদ্ধের সময় যেমন কমিউনিস্ট তকমা দিত, এখন তেমনই মাদক পাচারের অভিযোগ চাপানো হচ্ছে।

জাতিসংঘে ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রদূত স্যামুয়েল মনকাদা সংস্থার মহাসচিবের কাছে চিঠি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে ‘শত্রুতামূলক কার্যক্রম’ বন্ধ করতে আহ্বান জানিয়েছেন। মাদুরো এ সময় স্বেচ্ছাসেবক মিলিশিয়ায় যোগ দিতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান। সরকার দাবি করে, এই বাহিনীর সদস্য সংখ্যা ৪৫ লাখের বেশি, যদিও বাস্তবে এ সংখ্যা অনেক কম বলে মনে করা হয়।

অন্যদিকে বিরোধী নেতা মারিয়া কোরিনা মাচাদো মার্কিন প্রশাসনের পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, পরিবর্তনের সময় ঘনিয়ে এসেছে। তবে বিশ্লেষকেরা সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের আসল উদ্দেশ্য আক্রমণ নয়, বরং রাজনৈতিক চাপ তৈরি করা। মাদুরো সরকারের ভেতরে ফাটল ধরানোর একটি কৌশল মাত্র।

সূত্র: এপি