ভেনেজুয়েলা সংশ্লিষ্ট আরেকটি তেলবাহী জাহাজ জব্দ করলো যুক্তরাষ্ট্র

ভেনেজুয়েলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরেকটি তেলবাহী ট্যাংকার ক্যারিবীয় সাগরে জব্দ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেতা মারিয়া কোরিনা মাচাদোর বৈঠকের ঠিক আগমুহূর্তে এই অভিযান চালানো হয়। ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

মার্কিন সামরিক বাহিনীর সাউদার্ন কমান্ড জানায়, ভোররাতে ‘ভেরোনিকা’ নামের জাহাজটি কোনো প্রতিরোধ ছাড়াই আটক করা হয়। কমান্ডের দাবি, নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা জাহাজ চলাচলের ওপর ট্রাম্প প্রশাসনের যে কোয়ারেন্টাইন আরোপিত রয়েছে, সেটি অমান্য করেই ট্যাংকারটি চলছিল। এক বিবৃতিতে বলা হয়, ভেনেজুয়েলা থেকে যে তেল রফতানি হবে, তা অবশ্যই আইনসম্মত ও যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদিত প্রক্রিয়ায় হতে হবে।

মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ের পর ভেনেজুয়েলার তেল পরিবহনের সঙ্গে যুক্ত জাহাজ জব্দের এটি ষষ্ঠ ঘটনা। গায়ানা পতাকাবাহী আফ্রাম্যাক্স শ্রেণির ট্যাংকার ‘ভেরোনিকা’ চলতি জানুয়ারির শুরুতে খালি অবস্থায় ভেনেজুয়েলার জলসীমা ত্যাগ করলেও পরে আর সেখানে ফিরে যায়নি।

এই জব্দ অভিযান ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতা থেকে সরানোর পর দেশটির তেল রপ্তানি নিয়ন্ত্রণে আনতে যুক্তরাষ্ট্রের নেওয়া বৃহত্তর কৌশলের অংশ। ট্রাম্প প্রশাসন জানিয়েছে, ভেঙে পড়া ভেনেজুয়েলার জ্বালানি খাত পুনর্গঠনে প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলারের পরিকল্পনার আওতায় দেশটির তেলসম্পদের ওপর দীর্ঘমেয়াদি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে চায় ওয়াশিংটন।

এদিকে ভেনেজুয়েলার তেল বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত আরও অনেক ট্যাংকার জব্দ করতে আদালতের অনুমতি নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর মধ্যে অনেক জাহাজই নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে ভুয়া বা বাতিল পতাকা ব্যবহার করে তেল পরিবহন করছিল, যেগুলোকে ‘শ্যাডো ফ্লিট’ বলা হয়।

সাম্প্রতিক এই পদক্ষেপটি এসেছে ট্রাম্প ও মারিয়া কোরিনা মাচাদোর প্রথম সরাসরি বৈঠকের আগে। ট্রাম্প মাচাদোকে ‘স্বাধীনতার যোদ্ধা’ বলে প্রশংসা করলেও, ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র এখনো সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মতে, হঠাৎ ক্ষমতার রদবদল দেশটিতে নতুন অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।