যুক্তরাষ্ট্রের হরমুজ প্রণালির প্রয়োজন নেই: ট্রাম্প

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি নিয়ে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, এই পথ দিয়ে জ্বালানি সরবরাহের ওপর যুক্তরাষ্ট্র নির্ভরশীল নয়। বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে তিনি বলেন, আমাদের দেশে প্রচুর তেল রয়েছে। এই সংকটে আমাদের দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে না। মার্কিন বার্তা সংস্থা এপি এ খবর জানিয়েছে।

পারস্য উপসাগরের এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে বিশ্বের মোট তেলের এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়, যার বড় গ্রাহক এশিয়া। অবরোধের কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম মাঝে মাঝে ব্যারেল প্রতি ১২০ ডলারে গিয়ে ঠেকেছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র এই পথ দিয়ে আসা তেলের ওপর খুব বেশি নির্ভরশীল নয়, তবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম নির্ধারণের ফলে খোদ যুক্তরাষ্ট্রেই গত এক মাসে জ্বালানির দাম গ্যালন প্রতি এক ডলারের বেশি বেড়েছে।

জ্বালানির দাম কমানোর উপায় হিসেবে ট্রাম্প অঙ্গরাজ্যগুলোকে তেলের ওপর কর স্থগিত করার পরামর্শ দিয়েছেন। তবে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে ১৮.৪ সেন্ট (গ্যাসোলিন) ও ২৪.৪ সেন্ট (ডিজেল) কর স্থগিত করার বিষয়ে তিনি এখনই প্রস্তুত নন। ট্রাম্প বলেন, ‘প্রয়োজন মনে করলে এটি আমাদের হাতে একটি বিকল্প হিসেবে রাখা আছে।’ উল্লেখ্য, প্রেসিডেন্ট চাইলেই এককভাবে এই কর স্থগিত করতে পারেন না; এর জন্য কংগ্রেসের অনুমোদনের প্রয়োজন।

ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের অবস্থানকে ‘বিপজ্জনক ভুল’ ও আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছেন জার্মান প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্ক-ভাল্টার স্টেইনমায়ার। এর প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প স্টেইনমায়ারের বক্তব্যকে ইউক্রেন যুদ্ধের সঙ্গে তুলনা করে বলেন, ‘এটি আমাদের যুদ্ধ ছিল না, আমরা সাহায্য করেছি’। তিনি আরও বলেছেন, এই যুদ্ধ দ্রুত সমাধান করতে পারা হবে তার জন্য বড় সম্মানের।

চলতি সপ্তাহের শুরুতে ইরান একটি ‘উপহার’ দিয়েছে বলে রহস্যময় মন্তব্য করেছিলেন ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার তিনি সেটি প্রকাশ করে জানান, পাকিস্তান পতাকাবাহী আটটি তেলের জাহাজ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে ইরান। ট্রাম্পের মতে, এটি আলোচনার জন্য ইরানের একটি ইতিবাচক ইঙ্গিত।

ইরান আলোচনার কথা অস্বীকার করলেও ট্রাম্পের দাবি, তারা পর্দার আড়ালে আলোচনা করছে এবং চুক্তির জন্য ‘বেঁচে থাকার আকুতি’ জানাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘সবাই জানে তারা কথা বলছে। তারা বোকা নয়, আসলে বেশ চতুর। তারা লড়াকু হিসেবে খুব একটা ভালো না হলেও দরকষাকষিতে চমৎকার।’

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে সার ও চাষাবাদের খরচ বেড়ে যাওয়ায় মার্কিন কৃষকদের জন্য বিভিন্ন ধরনের নীতিমালার পরিকল্পনা করছেন বলে জানান ট্রাম্প। গত বছর বাণিজ্য যুদ্ধের সময় কৃষকদের ১২ বিলিয়ন ডলার সহায়তা দেওয়ার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি এবারও পাশে থাকার আশ্বাস দেন।