ভয়ের মুখে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছেন মার্কিন ডেমোক্র্যাটরা

ইসরায়েলকে দেওয়া মার্কিন সাহায্য ছাঁটাই করার প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে প্রতিনিধি পরিষদে এক নাটকীয় ভোটাভুটি ডেমোক্র্যাটিক পার্টির রাজনীতির এক গভীর পরিবর্তনের চিত্র সামনে এনেছে। মার্কিন কংগ্রেসে প্রগতিশীলদের প্রভাব কেবল আসন জয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই; তারা দলের পুরোনো নেতাদের হারিয়ে এমন এক ভীতি সৃষ্টি করেছেন যে, নতুন করে অনেক ডেমোক্র্যাট সদস্যও এখন টিক টিক করে চলা নিজেদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ বাঁচাতে ইসরায়েলবিরোধী অবস্থান নিতে বাধ্য হচ্ছেন।

জাস্টিস ডেমোক্র্যাটসের মুখপাত্র ওসামা আন্দ্রাবি বলেন, চলতি মেয়াদে আমাদের প্রাথমিক বিজয় এবং এআইপিএসি সমর্থিত প্রার্থীদের পরাজয় ডেমোক্র্যাটিক দলকে অবশেষে সাধারণ ভোটারদের আহ্বানে সাড়া দিতে বাধ্য করছে।

ইসরায়েল ঘনিষ্ঠ মধ্যপন্থি ডেমোক্র্যাটরাও এই বাস্তবতা স্বীকার করছেন। ডেমোক্র্যাটিক প্রতিনিধি জশ গটহাইমার বলেন, বিষয়টি এখন আর আসল নীতি বা উদ্দেশ্যের ওপর নির্ভর করছে না। এখন এটি রূপ নিয়েছে উগ্র বামপন্থিদের চটিয়ে দেওয়ার ভয় থেকে জন্ম নেওয়া এক আতঙ্কে।

গত বুধবারে স্টেট ডিপার্টমেন্টের একটি অর্থায়ন বিলে পেশ করা একটি সংশোধনী প্রস্তাবে ১০৩ জন ডেমোক্র্যাট সদস্য ইসরায়েলে সব ধরনের অর্থ পাঠানো নিষিদ্ধ করার পক্ষে ভোট দেন। রিপাবলিকান প্রতিনিধি থমাস ম্যাসি উপস্থাপিত এই বিলে কোনও কূটনৈতিক বা বেসামরিক আর্থিক ছাড়ের সুযোগ রাখা হয়নি। তা সত্ত্বেও, গাজা ও লেবাননে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে বার্তার খাতিরে বহু ডেমোক্র্যাট সদস্য কৌশলগত নানা আপত্তি থাকা সত্ত্বেও বিলটির পক্ষে ভোট দিয়েছেন।

বিলটির পক্ষে ভোট দেওয়া দোদুল্যমান এক আঞ্চলিক প্রতিনিধি বলেন, বিগত এক বছরে ইসরায়েলকে কেন্দ্র করে মানুষের মনোভাব অনেকটাই বদলে গেছে। গাজার ৮৫ শতাংশ ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়ে গেছে দেখে মার্কিনিরা প্রশ্ন তুলছেন যে এটি তাদের করের টাকা।

বিলের পক্ষে থাকা আরেক সদস্য জানান, প্রাথমিক নির্বাচনে কয়েকজন ইসরায়েলপন্থি আইনপ্রণেতার পরাজয় প্রমাণ করেছে যে জনমতে ঠিক কতটা পরিবর্তন এসেছে।

অন্যদিকে, বিলের বিপক্ষে ভোট দেওয়া সাবেক হাউস মেজরিটি লিডার স্টেনি হোয়ার বলেন, সারাদেশে রাজনৈতিকভাবে যা ঘটছে তা স্বাভাবিকভাবেই হাউস সদস্যদের ওপর প্রভাব ফেলে।

প্রতিনিধি স্টিভ কোহেন বলেন, রাজনৈতিক চাপ নিশ্চিতভাবেই প্রভাব ফেলেছে এবং নেতানিয়াহু ক্ষমতায় থাকা পর্যন্ত ইসরায়েলবিরোধী ভোট বাড়তেই থাকবে।

এই ভোটাভুটি ডেমোক্র্যাটিক হাউসের মাইনোরিটি লিডার হাকিম জেফ্রিকেও বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। তিনি নিজে বিলটির বিপক্ষে অবস্থান নেন এবং তার সঙ্গে থাকা ৯৮ জন ডেমোক্র্যাটও বিলের বিপক্ষে ভোট দেন। একজন সাবেক ডেমোক্র্যাট সদস্য জানান, হাকিম জেফ্রি দলের পরিবর্তিত মনোভাব বুঝতে ব্যর্থ হচ্ছেন বলে অনেক ডেমোক্র্যাট ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

তবে সংশোধনী ঠেকানোর দায়িত্বে থাকা এক আইনপ্রণেতা জানান, জেফ্রির চিঠিটি ছিল অত্যন্ত প্রভাবশালী এবং এর কারণেই অন্তত ৩০ থেকে ৪০ জন ডেমোক্র্যাট সিদ্ধান্ত বদলে বিপক্ষে ভোট দেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, জেফ্রি না থাকলে প্রায় ১৫০ জন ডেমোক্র্যাট সদস্য এই প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিতে পারতেন।

বৃহস্পতিবার জেফ্রিকে যখন এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন যে তিনি দলের মূল স্রোত থেকে ছিটকে গেছেন কি না, জবাবে তিনি বিরক্তি প্রকাশ করে বলেন, একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন করুন, আমি গুরুত্ব দিয়ে উত্তর দেব।

সংশোধনী বিলটির বিপক্ষে ভোট দেওয়া এক ডেমোক্র্যাট সদস্য সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরে বলেন, ইসরায়েল সেখানে যা করছে তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না এবং দেশের মানুষ এর প্রতিবাদ করছে। রাজনৈতিক দিক থেকে এখন কোনও সহজ সমাধান খোলা নেই।

সূত্র: অ্যাক্সিওস