ক্রমবর্ধমান ডেঙ্গু পরিস্থিতি সামাল দিতে নিজেদের প্রথম ডেঙ্গু টিকার অনুমোদন দিয়েছে ভারতের সেন্ট্রাল ড্রাগস স্ট্যান্ডার্ড কন্ট্রোল অর্গানাইজেশন (সিডিএসসিও)। জাপানি ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি তাকেডার তৈরি এই টিকার নাম ‘কিউডেঙ্গা’ (টিএকে-০০৩)।
নগরায়ণ, জলবায়ু পরিবর্তন ও মশাবাহিত পরিবেশ বৃদ্ধির ফলে গত দুই দশকে ভারতে ডেঙ্গু সংক্রমণ ১১ গুণেরও বেশি বেড়েছে। বিশ্বে মোট ডেঙ্গু আক্রান্তের প্রায় এক-তৃতীয়াংশই ভারতে, তাই এই অনুমোদনকে বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কিউডেঙ্গা একটি লাইভ-অ্যাটেনুয়েটেড টেট্রাভেলেন্ট টিকা, যা ডেঙ্গুর চারটি ভিন্ন রূপ বা সেরোটাইপের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। আগের ডেঙ্গু টিকা ডেংভাক্সিয়া’র ক্ষেত্রে আগে ডেঙ্গু হয়েছিল কিনা তা রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত করার বাধ্যবাধকতা ছিল। তবে কিউডেঙ্গার ক্ষেত্রে এমন কোনও পূর্ব শর্ত বা রক্ত পরীক্ষার প্রয়োজন নেই, যা বড় পরিসরে টিকাদান সহজ করবে। এর আগে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য, ব্রাজিল, ইন্দোনেশিয়াসহ ৪০টিরও বেশি দেশে টিকাটি অনুমোদন পেয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) পরামর্শ অনুযায়ী, এটি তিন মাসের ব্যবধানে দুটি ডোজের মাধ্যমে চামড়ার নিচে (সাবকিউটেনিয়াস) ইনজেকশন হিসেবে দেওয়া হয়। ২০ হাজারেরও বেশি শিশুর ওপর সাড়ে চার বছরের ট্রায়ালে দেখা গেছে, এটি ডেঙ্গুর কারণে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া প্রতিরোধে ৮৪ শতাংশ এবং সার্বিক ভাইরোলজিক্যাল ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রায় ৬১ শতাংশ কার্যকর।
টিকাটির দাম এখনও ঘোষণা করা হয়নি। তবে হায়দরাবাদভিত্তিক বায়োলজিক্যাল ই-এর সঙ্গে চুক্তি করে ভারতে বছরে পাঁচ কোটি ডোজ তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যা এর খরচ কমাতে সাহায্য করতে পারে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এই টিকা ডেঙ্গু পুরোপুরি দূর করতে পারবে না, তাই মশা নিধন ও সচেতনতার মতো বিদ্যমান ব্যবস্থাগুলোর পাশাপাশি একে একটি সম্পূরক প্রতিরক্ষা হিসেবে ব্যবহার করতে হবে।
সূত্র: এনডিটিভি









