বেপরোয়া ড্রাইভিং রেকর্ডিংয়ের ধুম পড়েছে কেন

গাড়িতে ড্যাশ ক্যামেরা লাগানো একসময় দুর্ঘটনা কিংবা বিমার ঝামেলার প্রমাণের জন্য হলেও তরুণ চালকদের কাছে তা এখন কনটেন্ট তৈরির নতুন মেশিনে পরিণত হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতে নিউ জার্সি, নিউ ইয়র্ক বা ফ্লোরিডার মতো শহরের তরুণরা বেপরোয়া ড্রাইভিং করছেন, রাস্তায় দুর্ঘটনা বা প্রায় দুর্ঘটনার মুহূর্তগুলো ক্যামেরাবন্দি করে টিকটক ও ইনস্টাগ্রামে প্রকাশ করছেন।

নিউ জার্সির ২৩ বছর বয়সী কাইল ফ্লাইশম্যান তার মডিফাইড হোন্ডা ওডিসি দিয়ে প্রায়ই রাস্তায় বিপজ্জনক ড্রাইভিং বা অন্য গাড়িকে ফাঁদে ফেলার ঘটনা রেকর্ড করেন। আবার ফ্লোরিডার ২৭ বছর বয়সী লাতাজ ব্রিনসন অন-ক্যামেরায় হাইওয়েতে অন্য গাড়ির সঙ্গে রেস প্রতিযোগিতা এবং মজাদার মন্তব্য করে এতটাই জনপ্রিয় হয়েছেন যে তিনি সিকিউরিটি গার্ডের চাকরি ছেড়ে এখন পূর্ণকালীন সোশ্যাল মিডিয়া ও ব্র্যান্ড ডিল নিয়ে ব্যস্ত।

নিউ ইয়র্কের জন লোব্রুত্তো নামের আরেক তরুণ অন্যান্য চালকদের গাড়ি চালানোর ভুলগুলো ড্যাশ ক্যামেরায় ধারণ ও তা নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করে লাখ লাখ ভিউ পাচ্ছেন এবং টি-শার্ট বিক্রি করে নিজের নতুন মার্সিডিজ গাড়ির টাকা তুলে ফেলেছেন।

তবে এই প্রবণতাকে মারাত্মক বিপজ্জনক হিসেবে আখ্যা দিয়েছে আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশন। সংস্থাটির উত্তর-পূর্ব অঞ্চলের মুখপাত্র মার্ক শিল্ড্রপ সতর্ক করে বলেছেন, ড্যাশ ক্যাম ফোনে ভিডিও করার চেয়ে নিরাপদ, এমনটা ভাবা ভুল, কারণ এটিও চালকের মনোযোগ বিচ্যুত করে। তরুণরা ভাবে তারা অসাধারণ দক্ষতা দেখাচ্ছে, কিন্তু বাস্তবে তারা নিজেদের অপরাধই ভিডিওতে ধারণ করছে।

দুর্ঘটনা বা ট্রাফিক আইন ভঙ্গ করে ভিডিও বানানো আদালতের প্রমাণ হিসেবেও ব্যবহার হতে পারে।

ড্যাশ ক্যাম নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিক্রি এই ট্রেন্ডে ব্যাপক বাড়লেও, সাধারণ মানুষের মধ্যে দেখা দিয়েছে আতঙ্ক। ড্যানিয়েল কুসিম্যানো নামের এক তরুণ জানান, রাস্তায় মানুষ যেভাবে ভাইরাল হতে ক্ষিপ্ত আচরণ বা ঝুঁকি নেয় তা সত্যি ভীতিকর। সড়ক সহিংসতার হাত থেকে রেহাই পেতে তিনি সম্প্রতি তার বাবা-মাকেও একটি ড্যাশ ক্যাম কিনে দিয়েছেন।

সূত্র: ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল