কানাডার সঙ্গে বাণিজ্য যুদ্ধ ও উত্তেজনার মধ্যেই উত্তর আমেরিকার বিখ্যাত ‘লেক ওন্টারিও’ হ্রদের নাম পরিবর্তন করে ‘লেক আমেরিকা’ রাখার জন্য এক নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ভৌগোলিক নামের নথিপত্রে এই নাম পরিবর্তনের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে ৩০ দিনের সময় দেওয়া হয়েছে।
কানাডার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর এবং ২০ বিলিয়ন ডলারের কানাডীয় পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প এই সিদ্ধান্ত নেন। ওভাল অফিসে আদেশে স্বাক্ষরের সময় ট্রাম্প দাবি করেন, কানাডা দীর্ঘদিন ধরে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সুযোগ সুবিধা নিয়েছে। হ্রদের নাম বদল নিয়ে উপহাসের সুরে তিনি বলেন, আমাদের একটি উপসাগর (গালফ অব আমেরিকা) এবং একটি হ্রদ হলো। এখন শুধু একটি মহাসাগর বাকি। তাই হয়তো আটলান্টিক বা প্রশান্ত মহাসাগরের নামও বদলে দেওয়া হতে পারে।
তবে ট্রাম্পের এই পদক্ষেপকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। তিনি বলেন, লেক ওন্টারিও নামটি চারশ বছরেরও বেশি পুরোনো, যা কানাডার সৃষ্টি ও আমেরিকার স্বাধীনতার আগের। এটি আজ এবং চিরকাল ‘লেক ওন্টারিও’ নামেই পরিচিত থাকবে। ওন্টারিওর প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ড এবং অন্যান্য জ্যেষ্ঠ কানাডীয় মন্ত্রীরাও ট্রাম্পের পদক্ষেপকে হাস্যকর আখ্যা দিয়ে একই অবস্থান ব্যক্ত করেছেন।
আন্তর্জাতিক জলসীমার নাম একতরফাভাবে পরিবর্তনের কোনও আইনি বাধ্যবাধকতা অন্য দেশের ওপর প্রযোজ্য নয়। এর আগে ২০২৫ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর ট্রাম্প একইভাবে মেক্সিকো উপসাগর-এর নাম বদলে ‘গালফ অব আমেরিকা’ রাখার নির্দেশ দিলে মেক্সিকো তা প্রত্যাখ্যান করে। সে সময় খবরটিতে এই নাম ব্যবহার না করায় অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসের ইভেন্ট থেকে নিষিদ্ধ করা হয়, যা নিয়ে আদালতে মামলা চলছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। ডেমোক্র্যাটিক আইনপ্রণেতা ডেবি ডিঙ্গেল ট্রাম্পের আদেশ বাতিল করতে কংগ্রেসে বিল আনার ঘোষণা দিয়ে একে ‘নির্বোধের মতো পদক্ষেপ’ বলে মন্তব্য করেছেন। নিউ ইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোচুল স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তার অঙ্গরাজ্য কখনোই এটিকে ‘লেক আমেরিকা’ নামে ডাকবে না। তা ছাড়া উইসকনসিনের গভর্নর ট্রাম্পের আদেশকে কটাক্ষ করে এক টিস্যু পেপারে সই করে ঠাট্টাচ্ছলে লেক মিশিগানের নাম ‘লেক উইসকনসিন’ রাখার ভিডিও পোস্ট করেছেন।
অন্যদিকে মার্কিন অভ্যন্তরীণ বিষয়ক মন্ত্রী ডাগ বারগাম ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে ভৌগোলিক জরিপ সংস্থাকে দ্রুত মানচিত্র হালনাগাদ করার নির্দেশ দিয়েছেন। নাম পরিবর্তনের এই টানাপোড়েনের মধ্যেও ট্রাম্প প্রশাসন ও কানাডার বাণিজ্য প্রতিনিধিদের মধ্যে ভবিষ্যৎ আলোচনার কিছুটা ইঙ্গিত দেখা গেছে, যেখানে সাংস্কৃতিক ও ভাষাগত কিছু শর্তে যুক্তরাষ্ট্র ছাড় দিতে রাজি হয়েছে বলে জানিয়েছেন কানাডার বাণিজ্যমন্ত্রী ডমিনিক লিব্ল্যাঙ্ক।
সূত্র: বিবিসি