যুক্তরাষ্ট্রে ডিগ্রিহীনদের তুলনায় পিছিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় স্নাতকরা

যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে গত দুই দশকের ইতিহাস বদলে দিয়ে নতুন এক প্রবণতা দেখা দিয়েছে। ডিগ্রি না থাকা বা সাধারণ শিক্ষার তরুণ কর্মীদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ গত কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয় ডিগ্রিধারী উচ্চশিক্ষিত তরুণদের জন্য চাকরি পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

শ্রমবাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান বার্নিং গ্লাস ইনস্টিটিউট-এর এক নতুন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২২ থেকে ৩৪ বছর বয়সী যেসব কর্মী কলেজ পাস করেননি, তাদের বেকারত্বের হার গত দুই দশকের মধ্যে সর্বনিম্নে রয়েছে।

প্রতিষ্ঠানের প্রধান অর্থনীতিবিদ গ্যাড লেভানন জানান, অতীতে ভালো কিংবা মন্দ যেকোনও অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতেই ডিগ্রিধারী ও ডিগ্রিহীন উভয় শ্রেণির কর্মসংস্থানের গতিপথ একই দিকে থাকত। কিন্তু এখন দুই দলের অভিজ্ঞতা সম্পূর্ণ ভিন্ন।

চাকরির বাজারের এই বৈষম্যের মূল কারণ চাহিদা ও জোগানের পরিবর্তন। বয়োবৃদ্ধদের অবসর গ্রহণ এবং অভিবাসন কমে যাওয়ার কারণে কারিগরি ও কায়িক শ্রমে দক্ষ কর্মীর সংকট তৈরি হয়েছে। বিপরীতে, উচ্চশিক্ষিত তরুণের সংখ্যা যেমন বাড়ছে, তেমনি করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রবেশপর্যায়ের অনেক কাজ এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে সম্পন্ন হচ্ছে। ফলে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও সাধারণ ব্যবসায় স্নাতকদের প্রতিযোগিতা ও জটিলতা বাড়ছে।

ঐতিহাসিক মানদণ্ডে দেখা গেছে, কাজ যত বেশি শারীরিক শ্রমভিত্তিক ও সরাসরি উপস্থিতি নির্ভর, সেটির বেকারত্বের হার তত কম। নির্মাণ খাত, উৎপাদন লাইন, রেস্তোরাঁ, খুচরা বিক্রি ও নিরাপত্তাকর্মীদের ক্ষেত্রে চাকরির সুযোগ অনেক বেড়েছে। সদ্য প্রকাশিত আগস্ট মাসের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে নতুন তৈরি হওয়া ১ লাখ ৬২ হাজার চাকরির মধ্যে এক-তৃতীয়াংশের বেশি (৫৯ হাজার) যুক্ত হয়েছে খাদ্য ও পানীয় সেবা খাতে।

বিপরীতে ২২ থেকে ৩৪ বছর বয়সী স্নাতক ডিগ্রিধারীরা গত দুই দশকে কেবল করোনাভাইরাস মহামারি এবং ২০০৭-০৯ সালের বৈশ্বিক মন্দা ছাড়া এমন মন্দা পরিস্থিতি আর দেখেননি। ইউনিভার্সিটি অব সিনসিনাটি থেকে আন্তর্জাতিক ব্যবসায় স্নাতক শেষ করা জাকারি ব্ল্যাকমন সত্তরটি আবেদন করেও কেবল তিনটি সাক্ষাৎকার পান। কোনও চাকরি না পেয়ে তিনি পরে বাধ্য হয়ে এমবিএতে ভর্তি হন। ব্ল্যাকমন বলেন, আমাদের মতো শিক্ষার্থীরা, যারা করার মতো সব নিয়ম মেনে চলেছে, তারাও কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে। আমি আশা করছি এমবিএ আমার জন্য নতুন দুয়ার খুলে দেবে।

অবশ্য সামগ্রিক হিসেবে ডিগ্রিধারীদের বেকারত্বের গড় হার (২.৭ শতাংশ) এখনও ডিগ্রিহীনদের (৪.৭ শতাংশ) চেয়ে কম। তবে লেভানন সাম্প্রতিক স্নাতকদের পরামর্শ দিয়ে বলেন, স্থান বা পদের ক্ষেত্রে কিছুটা ছাড় দিয়ে হলেও সুযোগের পরিধি বড় করা উচিত, তাহলে চাকরি পাওয়া সহজ হবে।

সূত্র: ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল