যে যে উপায়ে মানবজাতিকে ধ্বংস করতে পারে এআই

আগামী এক দশকের মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই মানবজাতিকে বিলুপ্ত করে দিতে পারে, এমন শঙ্কার কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন এআই গবেষকরা। অতি-বুদ্ধিমান এআইয়ের অনিয়ন্ত্রিত সংস্করণ মানবজাতিকে ধ্বংস করতে পারে বলে চরম সতর্কবার্তা দিচ্ছেন অ্যানথ্রোপিক-এর গবেষকেরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে সংস্থাটির গবেষক জেকব কক্সন লিখেছেন, অন্য কোনও মানব কর্মকাণ্ড এই মাত্রার বিপদ তৈরি করে না।

বিশেষজ্ঞরা প্রধানত দুটি উপায়ে এই বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন: অত্যন্ত শক্তিশালী এআইকে অন্যায্য কাজে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা কিংবা এর ওপর থেকে মানুষের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যাওয়া। এসব ক্ষেত্রে ক্ষতিকর পক্ষগুলো সহজেই জৈবিক বা রাসায়নিক অস্ত্র তৈরি করতে পারে অথবা অনিয়ন্ত্রিত এআই ব্যবস্থা বিশাল পরিসরে সাইবার হামলা চালিয়ে মানবজাতির অবকাঠামো অচল করে দিতে পারে।

এ ছাড়া এআই যদি নিজের ক্ষমতায় মানুষের বোঝার আগেই আরও শক্তিশালী সংস্করণ তৈরি করা শুরু করে, তবে মানুষ তা আর নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না। ওপেনএআই-এর প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যান বলেন, এসব মডেলের অনেক ক্ষমতাই অতিমানবীয় হয়ে উঠছে এবং আমরা পুরোপুরি এক অজানা সমুদ্রে ভাসছি।

এআইয়ের কারণে মানবজাতির অস্তিত্বসংকট বা মহাবিপর্যয়ের এই সম্ভাব্য হারকে গবেষকেরা ‘পি(ডুম)’ হিসেবে অভিহিত করেন। কৃত্রিম সাধারণ বুদ্ধিমত্তা (এজিআই) উদ্ভাবনের সঙ্গে সঙ্গে এই ঝুঁকি আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হয়। তবে এই সম্ভাবনার হার নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মতামত ভিন্ন।

এআই নিরাপত্তা বিজ্ঞানী রোমান ইয়ামপোলস্কি এই ঝুঁকি ৯৯.৯৯ শতাংশ বলে মনে করেন। অন্যদিকে এএমআই ল্যাবসের প্রতিষ্ঠাতা ইয়ান লেকুন বিষয়টিকে পুরোপুরি অনুমাননির্ভর উল্লেখ করে বলেন, এটি পারমাণবিক ধ্বংসযজ্ঞের চেয়ে অনেক কম সম্ভাব্য।

এ ছাড়া ইলন মাস্ক এই ঝুঁকি ২০ শতাংশ এবং অ্যানথ্রোপিকের প্রধান নির্বাহী দারিও আমোদেই ১০ থেকে ২৫ শতাংশ বলে অনুমান করেছেন।

এআইয়ের গডফাদার খ্যাত জিওফ্রে হিন্টন সিএনএনকে বলেন, এই ঝুঁকির হার ১০ থেকে ২০ শতাংশের মধ্যে। তবে তিনি আরও বলেন, যাঁরা এই ধরনের শঙ্কার হিসাব করছেন, তারা মূলত অনুমান করছেন। তারা কেবল তাদের অনুভূতির কথা ব্যক্ত করছেন।

তবে বর্তমান প্রযুক্তির ক্লড, গ্রোক বা চ্যাটজিপিটি এখনও বিশ্ব ধ্বংসের চক্রান্ত করার পর্যায়ে পৌঁছায়নি। ২০২৬ ইন্টারন্যাশনাল এআই সেফটি রিপোর্ট-এ বলা হয়েছে, বর্তমান প্রযুক্তি ব্যবস্থাগুলো মানুষের নিয়ন্ত্রণ কেড়ে নেওয়ার মতো সক্ষম নয়। এই ঝুঁকি এড়াতে বিজ্ঞানীরা কিল সুইচ বা জরুরি শাটডাউন ব্যবস্থাসহ নানা সুরক্ষাকবচ তৈরির কাজ করছেন। গত এপ্রিলে প্রকাশিত র‍্যান্ড-এর এক প্রতিবেদনে এআই ব্যবহার করে জৈব অস্ত্র তৈরি ঠেকানোর ৯টি উপায় প্রস্তাব করা হয়েছে।

তবে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর দ্রুত নতুন এআই তৈরির ব্যবসায়িক ও বিনিয়োগকারীদের চাপ রয়েছে। পাশাপাশি চীন এবং বিভিন্ন মার্কিন প্রতিষ্ঠানের উন্মুক্ত মডেল তৈরি করা ক্ষতিকর পক্ষগুলোর হাতে এআই তুলে দেওয়ার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। গবেষকদের মতে, প্রলয়ের সঠিক হার পরিমাপ করা না গেলেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ধ্বংসাত্মক ঝুঁকির বিষয়টি এখন এক বাস্তব সতর্কবার্তা।

সূত্র: অ্যাক্সিওস