ভারতের কানপুরে বাড়িটিতে যখন এক ৬৩ বছর বয়সী ব্যবসায়ী রক্তাক্ত হয়ে ঢলে পড়ছিলেন, ঠিক তখনই বারের লাউডস্পিকারে ‘তুম তো ধোখেবাজ হো’ গানের তালে নাচছিলেন তার নিজেরই পুত্রবধূ। পুলিশের দাবি, নিজের শ্বশুরকে ২৬ বার ছুরিকাঘাত করে নির্মমভাবে হত্যার এই পরিকল্পনার মূল মাস্টারমাইন্ড ৩৬ বছর বয়সী সালু মিনোচা নামের সেই নারী নিজেই।
কানপুরের ব্যবসায়ী বিনীত মিনোচাকে হত্যার অভিযোগে সাবেক গৃহকর্মী বিশাল, তার সহযোগী রাজ কিশোর এবং মূল পরিকল্পনাকারী পুত্রবধূ সালু মিনোচাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এক বন্দুকযুদ্ধের পর বিশাল ও রাজকে গ্রেফতার করা হলে সালুর জড়িত থাকার বিষয়টি বেরিয়ে আসে। বিশালের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শ্বশুরের ওপর প্রতিশোধ নিতে ৬ লাখ রুপিতে এই খুনের চুক্তি করেছিলেন সালু।
পুলিশের তদন্তে জানা যায়, গভীর রাত পর্যন্ত পার্টি করা নিয়ে শ্বশুরের নিষেধাজ্ঞা এবং সিসিটিভি ক্যামেরায় সবসময় নজরদারি চালানো নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই ক্ষুব্ধ ছিলেন সালু। ধনাঢ্য পরিবারের সদস্য হওয়া সত্ত্বেও দৈনন্দিন খরচের জন্য শ্বশুরের ওপর নির্ভর করা এবং গত ২৮ জুলাই রাতে বাড়ি ফেরা নিয়ে ঝগড়াই এই হত্যাকাণ্ডের মূল অনুঘটক হিসেবে কাজ করে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, গত শুক্রবার পরিবারের সাবেক কর্মী বিশালকে ডেকে নিয়ে ৬ লাখ রুপির বিনিময়ে খুনের চুক্তি করেন সালু। অগ্রিম হিসেবে দেওয়া হয় ২ লাখ রুপি এবং বাকি টাকা ১৫ দিন পর দেওয়ার কথা ছিল। এমনকি তিনি ঘরের একটি ডুপ্লিকেট চাবিও বিশালের হাতে তুলে দেন। শনিবার রাতে সালু তার স্বামী ও সন্তানকে নিয়ে বারে পার্টি করতে যাওয়ার আগে বিশালদের আসার পথ সহজ করে দেন। নিরাপত্তা প্রহরীকে তিনি জানান, তারা ওষুধ পৌঁছে দিতে আসছে।
পার্টিতে নাচগানের আড়ালে নিজের সম্পৃক্ততা লুকানোর চেষ্টা করলেও ফোনে পুরো হত্যা মিশন তদারকি ও দিকনির্দেশনা দিচ্ছিলেন সালু নিজেই। বিষ মাখিয়ে বা শ্বাসরোধ করে হার্ট অ্যাটাকের নাটক সাজানোর পরিকল্পনা থাকলেও আততায়ীরা শেষ পর্যন্ত বিনীতকে ২৬ বার ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। রাত ৩টার দিকে পার্টি থেকে ফিরে এসে রক্তাক্ত অবস্থায় বিনীতের লাশ উদ্ধার করে পরিবার। পুলিশের দাবি, অপরাধ ঢাকতেই সালু সেই রাতে পার্টি করার নাটক সাজিয়েছিলেন।
সূত্র: এনডিটিভি

মায়েরা কেন জড়িয়ে পড়ছেন ডিজিটাল লড়াইয়ে
মার্কিন বিমানবাহী রণতরিতে হামলা উদযাপন ইরানি মিডিয়ার





