জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে এক সংবাদ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে চুক্তি করার বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনও প্রস্তুত। তিনি এমন একটি চুক্তি চান যা ইরানকে একটি মহান ও সমৃদ্ধশালী দেশ হওয়ার সুযোগ দেবে।
তবে রুবিও সতর্ক করে বলেন, ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা এবং সন্ত্রাসবাদে সমর্থন অব্যাহত রাখার কারণে এই প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ইরান যদি এমন অবস্থান বজায় রাখে, তবে ট্রাম্পের সামনে আরও সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার মতো একাধিক বিকল্প খোলা রয়েছে বলে মন্তব্য করেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
চলতি সপ্তাহের আলোচনার বিস্তারিত তথ্য না দিলেও রুবিও জানান, ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের হামলা বন্ধ করা এবং হরমুজ প্রণালিকে হামলামুক্ত ও সবার জন্য উন্মুক্ত রাখার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র এবং গালফ কোঅপারেশন কাউন্সিলের (জিসিসি) মধ্যে ঐকমত্য রয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করে জানান, যুক্তরাষ্ট্র সাধারণভাবেই কেবল সরে গিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে জয় ঘোষণা করতে পারে না। ইসলামিক রিপাবলিক ইরান যাতে কখনও পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, তা যুক্তরাষ্ট্রকে নিশ্চিত করতে হবে। সংবাদ সম্মেলনে রুবিও বলেন, বিশ্বের শীর্ষ সন্ত্রাসবাদী রাষ্ট্রের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র থাকবে, এমন ধারণা একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়।
অতীতে জাতিসংঘের অনেক সদস্যরাষ্ট্রও এই নীতির পক্ষে ভোট দিয়েছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।
রুবিও আরও জানান, গত বছরের পরমাণু স্থাপনায় বোমাহামলার মধ্যেই ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি আটকে রাখার মার্কিন প্রচেষ্টা সীমাবদ্ধ নয়; ট্রাম্প মূলত পরবর্তী প্রজন্মের কথা চিন্তা করছেন।
তিনি জানান, মার্কিন সামরিক বাহিনী নিশ্চিত করছে যেন হরমুজ প্রণালির একাংশ বাণিজ্যিক তেল ট্যাঙ্কারগুলোর জন্য উন্মুক্ত থাকে, যাতে বিশ্বজুড়ে তেল সরবরাহ বজায় রাখতে জাহাজগুলো নিরাপদে চলাচল করতে পারে।
সূত্র: এপি