যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্যের মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সব ৫৪৮ জন আসামির সাজা কমিয়ে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন গভর্নর গ্যাভিন নিউসাম। এক চিঠিতে নিউসাম জানান, আমরা এখন এই অপরাধীদের বিস্মৃতিতে বিলীন হতে দিতে পারি, আর শিকারদের চিরকাল মনে রাখতে ও শ্রদ্ধা জানাতে পারি।
২০০৬ সালের পর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর না হওয়া রাজ্যে এই সিদ্ধান্তকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। নিউসাম ক্যালিফোর্নিয়ার মূল্যবোধ ও বিচার ব্যবস্থার সুরক্ষায় তার সাংবিধানিক সাধারণ ক্ষমার ক্ষমতার কথা উল্লেখ করে বলেন, রাষ্ট্র কর্তৃক হত্যাকাণ্ড ক্যালিফোর্নিয়ার মূল্যবোধের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ এবং এটি আমাদের আইনি ব্যবস্থার ভিত্তিকে দুর্বল করে।
তিনি ক্যালিফোর্নিয়ার মৃত্যুদণ্ড ব্যবস্থাকে ‘ব্যর্থ’ বলে অভিহিত করেন এবং জানান যে প্যারোলবিহীন আমৃত্যু কারাদণ্ডই সবচেয়ে কঠোর ও নীতিগত শাস্তি।
যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে জনবহুল এই রাজ্যের ডেমোক্র্যাটিক নেতা নিউসামকে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক বার্নার্ড ই হারকোর্ট নিউসামের এই পদক্ষেপে ফ্রান্সের সাবেক প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া মিতেরাঁর ১৯৮১ সালের নৈতিক অবস্থানের তুলনা টেনেছেন।
আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়নের নির্বাহী পরিচালক অ্যান্থনি ডি রোমেরো একে ‘বর্ণবাদী ও অমানবিক শাস্তির অবসান’ হিসেবে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির শীর্ষ প্রসিকিউটর নাথান হচম্যান স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন যে, ভোটাররা দুবার ব্যালটে মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখার পক্ষে ভোট দিয়েছেন।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ২৭টি রাজ্যে মৃত্যুদণ্ড বৈধ থাকলেও ২৩টি রাজ্য ও ওয়াশিংটন ডিসিতে তা রদ করা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মৃত্যুদণ্ডকে জঘন্য অপরাধ দমনে একটি ‘জরুরি হাতিয়ার’ হিসেবে সমর্থন করে আসছেন।
সূত্র: বিবিসি