নিরাপত্তা সূত্রের বরাত দিয়ে পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডন জানায়, আহত হওয়ার পর সুস্থ হতে পারেননি মেজর আলী জাওয়াদ। পেশাওয়ারে তার শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। তার নিজ শহর কোয়েটায় তাকে দাফন করা হবে।
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, রবিবার সীমান্তে তোরখাম গেটে আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের নিরাপত্তারক্ষীদের মধ্যে গোলাগুলি শুরু হয়। এতে মেজর আলী জাওয়াদ গুলিবিদ্ধ হন। আইএসপিআর-এর দাবি আফগানিস্তান থেকে পাকিস্তানি সেনাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়।
সন্ত্রাসীদের গতিবিধিতে নজর রাখতে সীমান্তের তোরখামে একটি গেট নির্মাণ করছে পাকিস্তান। আফগান সরকার পাকিস্তানের এ উদ্যোগকে সমর্থন করছে না বলে দাবি আইএসপিআরের।
রবিবার থেকে সীমান্তে দুই পক্ষের গোলাগুলি চলছে। এতে পাকিস্তানের ৬জন বেসামরিক নাগরিক ও ১০জন নিরাপত্তারক্ষী আহত হন। নিহত মেজর ছাড়াও একজন লেফটেন্যান্ট আহত হয়েছেন।
এ ঘটনার পর আফগান রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে পাকিস্তান। রাষ্ট্রদূতের কাছে পাকিস্তান ক্ষোভ জানায়।
দীর্ঘদিন ধরে আফগানিস্তানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত পাকিস্তান। তালেবান ও আল কায়েদার বিরুদ্ধে অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম জোট সহযোগী ছিল দেশ দুটি। সম্প্রতি আফগানিস্তান থেকে মার্কিন ড্রোন হামলায় পাকিস্তানের ভূখণ্ডে নিহত হন তালেবান নেতা মোল্লা মনসুর। এরপর থেকে এ অঞ্চলে মার্কিন নীতির পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের অভিযোগ আনে পাকিস্তান। দেশটির সেনা কর্মকর্তারা আফগানিস্তানে ড্রোন হামলা চালানোর আহ্বান জানান যুক্তরাষ্ট্রকে।
এছাড়া পাকিস্তানের আঞ্চলিক প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের সঙ্গে আফগানিস্তান বেশ কয়েকটি চুক্তি করেছে। এতেও ক্ষুব্ধ পাকিস্তান। তারই বহিঃপ্রকাশ ঘটছে সাম্প্রতিক সীমান্ত উত্তেজনায়। সূত্র: ডন।
/এএ/