নিজের জীবনের ওপর লেখা বই বিক্রি এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে গিয়ে রাখা বক্তৃতা থেকে পাওয়া অর্থই মালালার কোটিপতি হওয়ার উৎস। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাংবাদিক ক্রিস্টিনা ল্যাম্বের সঙ্গে যৌথভাবে লেখা তার আত্মজীবনী ‘আই অ্যাম মালালা’ সমগ্র বিশ্বে ব্যাপক সাড়া ফেলে।
গত বছরের আগস্ট পর্যন্ত পুরো বিশ্বে বইটির ১৮ লাখ কপি বিক্রি হয়। এই বই বিক্রি থেকে আসে ২২ লাখ পাউন্ড। কর দেওয়ার আগে তার উপার্জন দাঁড়ায় ১১ লাখ পাউন্ড। ডেইলি মেইল জানায়, সালার্জাই লিমিটেড কোম্পানি মালালার জীবনীগ্রন্থের স্বত্বটি দেখভাল করে। এই কোম্পানিতে মালালা ও তার বাবা-মায়ের যৌথ মালিকানা রয়েছে।
সালার্জাই কোম্পানিটি গঠিত হয়েছে ২০১৩ সালে। মালালার আত্মজীবনীমূলক বইটির স্বত্ব ছাড়াও এই কোম্পানিটি তার দাতব্য প্রতিষ্ঠান ‘মালালা ফান্ড’ এর তদারকি করে থাকে। গোটা বিশ্বের মেয়েদের নিরাপদ শিক্ষা নিশ্চিত করতেই এই ফান্ড গঠন করা হয়েছে।
শুধু বই বিক্রিই তার আয়ের একমাত্র উৎস নয়। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বক্তৃতা দিয়েও তিনি মোটা অংকের অর্থ আয় করেন। মার্কিন সংস্থা পলিসি স্টাডিজের রেকর্ড বলছে, প্রত্যেক ভাষণের জন্য তিনি নেন ১ লাখ ১৪ হাজার পাউন্ড (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ টাকা)। যেখানে ডেসমন্ড টুটুর মতো নোবেলজয়ী সমাজকর্মী প্রত্যেক ভাষণের জন্য নেন ৬৪ হাজার পাউন্ড। সবচেয়ে কম বয়সে নোবেল পাওয়ার পর এখন নোবেল প্রাপ্তদের মধ্যে সবচেয়ে ধনীও বলা যেতে পারে তাকে। তার বাবাও বিভিন্ন জায়গায় বক্তৃতা দেন বলে জানা গেছে।
বিত্তশালী হয়ে ওঠা মালালা সামাজিক কাজকর্মও করেন। তার স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘মালালা ফান্ড’ সারা বিশ্বে মেয়েদের নিরাপদে পড়াশোনা করতে সাহায্য করে।
উল্লেখ্য, পড়াশোনা করার ‘অপরাধে’ ২০১২ সালের ৯ অক্টোবর মালালাকে গুলি করে তালেবানরা। মাথায় গুলি লাগলেও অল্পের জন্য বেঁচে যান তিনি। উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৪ বছরের মালালাকে তখন লন্ডন নিয়ে আসা হয়। সেখানকার এক হাসপাতালে মাথায় অস্ত্রোপচারের পর সেরে ওঠেন মালালা। কিন্তু এই ঘটনা সারা বিশ্বে তার নতুন পরিচিতি তৈরি করে। এরপরেই নিজের আত্মজীবনী লেখেন মালালা।
এরপর আর মালালাকে পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। ২০১৪ সালে তিনি শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পান। বর্তমানে সপরিবারে যুক্তরাজ্যে বসবাস করছেন। লেখাপড়া করছেন লন্ডনের এজবাস্টন হাই স্কুলে। চলতি মাসে তিনি ব্রিটেনের রাণির নিমন্ত্রণে বার্মিংহাম রাজপ্রাসাদেও গিয়েছিলেন। জানা গেছে, তার সাহসিকতায় রাণিও বেশ প্রভাবিত হয়েছেন।
এ বছর ফেব্রুয়ারিতে গৃহযুদ্ধে বিধ্বস্ত সিরিয়ার ভেতরে থাকা এবং শরণার্থী হয়ে দেশ ছাড়তে বাধ্য হওয়া শিশুদের জন্য ১৪০ কোটি মার্কিন ডলারের তহবিল সংগ্রহের ঘোষণা দিয়েছেন মালালা। সূত্র: ডেইলি মেইল।
/এসএ/এএ/