পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশে শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভের দ্বিতীয় দিনেও উত্তেজনা বিরাজ করছে। বৃহস্পতিবারও কাসুর শহরে বিক্ষোভ করছেন প্রতিবাদকারীরা। শিশুর হত্যাকারীকে গ্রেফতারে তথ্য দিয়ে সহযোগিতাকারীর জন্য ১ কোটি রুপি পুরস্কার ঘোষণা করেছেন পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ।
আট বছরের এক শিশু জয়নাবকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনার প্রতিবাদে বেশ কিছুদিন ধরেই সরব ছিল পাকিস্তানের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। এর ধারাবাহিকতায় বুধবার অপরাধীদের বিচার দাবিতে রাস্তায় নেমে আসেন বিপুল সংখ্যক মানুষ। এ ধরনের ঘটনায় পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার সমালোচনা করেন তারা। এক পর্যায়ে বিক্ষুব্ধ বিক্ষোভকারীরা লাঠি ও খণ্ড খণ্ড পাথর নিয়ে ডেপুটি কমিশনার কার্যালয় অভিমুখে যাত্রা করেন। এ সময় সংঘর্ষে অন্তত দুই ব্যক্তি নিহত হন। আহত হয়েছেন আরও দুইজন।
বৃহস্পতিবার পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী উচ্চ পর্যায়ের যৌথ তদন্ত টিম গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন। এই যৌথ তদন্ত টিমে সামরিক ও বেসামরিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা থাকবেন। হত্যাকারীকে গ্রেফতারে তথ্য দিয়ে সহযোগিতাকারীকে ১ কোটি রুপি পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এছাড়া বুধবার বিক্ষোভে নিহত দুই প্রতিবাদকারীর পরিবারকে ৩ লাখ রুপি করে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
জয়নবের ধর্ষক ও হত্যাকারীকে গ্রেফতারের প্রশাসনের আশ্বাসের পরও বৃহস্পতিবার কাসুর শহরে বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। নিহত শিশুর পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাতে অনেক মানুষ ছুটে আসছেন। প্রায় অচল রয়েছে শহর। এদিন বিক্ষোভকারীরা বাগ চক এলাকায় সব দিক থেকে মানুষের প্রবেশের রাস্তা বন্ধ করে দেয়। ফিরোজপুর সড়কও অবরোধ করেন বিক্ষোভকারীরা। এছাড়া পিএমএল-এন’র এমপিএ নাঈম সাফদার আনসারির বাড়িতেও ভাঙচুর চালানো হয়। বিক্ষুব্ধদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও লাঠিচার্জ করে।
৮ বছরের জয়নাবকে সর্বশেষ দেখা যায় গত ৪ জানুয়ারি। সেদিন বাড়ির পাশের টিউশন সেন্টারে পড়তে যায় সে। এরপরই অপহৃত হয় শিশুটি। এ সময় তার মা-বাবা ওমরা পালনের জন্য সৌদি আরবে অবস্থান করছিলেন। মঙ্গলবার এক পুলিশ সদস্য শাহবাজ খান রোডে আবর্জনার স্তূপ থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করেন। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। পুলিশ বলছে, চার থেকে পাঁচদিন আগে শিশুটিকে হত্যা করা হয়েছে।সূত্র: এক্সপ্রেস ট্রিবিউন।